হোলির দিন। রঙিন আবিরে ঢাকা শহর তখনও উৎসবের রেশে মাতোয়ারা। আতিশ চৌধুরীর মুখেও তখন লাল-নীল-হলুদের ছোঁয়া। বন্ধুদের সঙ্গে হেসে-খেলে, দৌড়ে বেড়িয়ে সবে একটু ক্লান্ত হয়েছে সে। দুপুরের রোদ মাথার ওপর চড়ে বসেছে, শরীরটা গরম হয়ে আছে। এক বন্ধুর হঠাৎ প্রস্তাব, “চল, গঙ্গায় গিয়ে স্নান করে আসি!”
শিবপুর ঘাটের সিঁড়িগুলো তখনও ভিজে, রঙ ধুয়ে নদীর জলে মিশছে ধীরে ধীরে। আতিশ সাঁতার জানত না, তবুও সাহসী কিশোরদের মতো এগিয়ে গেল। তার চোখে একরকম অদ্ভুত রোমাঞ্চ খেলে গেল—এই প্রথম সে নদীর বুকে ঝাঁপ দেবে! বন্ধুরা সাবধান করল, “দেখ, সাবধানে থেকিস।” কিন্তু সে শুনল কই!
এক… দুই… তিন!
আতিশ লাফ দিল।
ঠান্ডা জল স্পর্শ করতেই শিরশিরে একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল তার সারা শরীরে। কিন্তু পরমুহূর্তেই আতঙ্ক! নদীর গভীরতা কেমন যেন কেবল নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে। হাত-পা ছোড়ার চেষ্টা করল, চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোল না। উপরে বন্ধুদের মুখগুলো ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে…
শুধু রঙ মাখা আকাশটা তখনও দেখা যাচ্ছিল।
বন্ধুরা আতিশকে খুঁজে পায়নি। আতঙ্কিত চিৎকার, পুলিশের দৌড়াদৌড়ি, নদীর বুকে নৌকা আর লঞ্চের আলো—সব মিলিয়ে একটা হুলুস্থুল অবস্থা।
শেষমেশ বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ গঙ্গার বুকে নিস্তব্ধ হয়ে ভেসে উঠল একদম অন্য এক আতিশ। তার রঙ ধুয়ে গেছে, প্রাণও!
রঙের উৎসব শেষ হলেও আতিশের গল্পটা রয়ে গেল… এক মর্মান্তিক স্মৃতি হয়ে।

