গ্রামে ঈদের আগের শেষ ছুটির দিন, তাই ছোটো-বড়ো সবাই খুশির আমেজে মেতে উঠেছিল। পূর্ব কেশবপুরের মাঠে চলছিল খেলাধুলো, গানে মেতে উঠেছিল মেয়েরা। ঠিক তখনই গ্রামের মোড়ে এসে দাঁড়ায় এক নতুন মুখ—একজন ফুচকা বিক্রেতা, নাম কেউ জানে না, তবে তার ঝাঁপির ঢাকনা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভিড় জমে যায়।
“দাদা, মিষ্টি জলটা বেশি দেবেন!”
“আমারটা একটু টক কোরো!”
হাসি-ঠাট্টা আর ফুচকার ঝালমিষ্টি স্বাদে সন্ধ্যা কাটছিল।
কিন্তু রাত গড়াতেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। একের পর এক শিশু আর মহিলা বমি করতে করতে পড়ে যাচ্ছেন, কারো পেট মোচড়ানো ব্যথায় চোখে জল। সকালে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৬০-এর কাছাকাছি।
প্রথমে কেউ কিছু বুঝতে পারেনি। পরে দেখা যায়—সবাই এক জায়গা থেকেই খেয়েছিল ফুচকা!
খবর ছড়িয়ে পড়ে আগুনের মতো।
আরামবাগ প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয় বেশ কয়েকজনকে, আর বাকিদের নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামে তৈরি হওয়া অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে। সবার চোখে আতঙ্ক—“আর যদি ছোটো ভাইটা না বাঁচে?”
“ও তো মাত্র তিনটে খেল…”
স্থানীয় যুবক মিনহাজ আহমেদ নিজেই দৌড়ে বেড়াল ওষুধ, জল, অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত এক করে গেলেন। গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন—রাস্তার ধারের খাবারে শুধু স্বাদ নয়, নিরাপত্তাও জরুরি।
📌 গল্পের শেষে বার্তা:
একটা ছোটো ভুল—অপরিষ্কার জল বা নোংরা হাত—প্রাণনাশের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ফুচকা হোক বা যেকোনো স্ট্রিট ফুড, খাওয়ার আগে নিজের চোখে পরিচ্ছন্নতা দেখে নেওয়াটা আমাদের কর্তব্য।
আর প্রশাসনের দায়িত্ব—অবৈধ, অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি বন্ধে কড়া নজর রাখা।
ফুচকার ফাঁদে আর যেন না জড়ায় কোনো পরিবার, কোনো ছোট্ট মুখের হাসি না মুছে যায় আর!
সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন।

