থানার দরজায় এসে দাঁড়ালেন এক মধ্যবয়সী মহিলা, চোখেমুখে আতঙ্ক আর উদ্বেগ। হাত কাঁপছে, কণ্ঠস্বর কাঁপা—তিনি বললেন, “আমার জামাইকে খুন করতে পারে আমার মেয়ে… এক প্রেমিকের সঙ্গে মিলে।”
থানার ভিতরে যেন মুহূর্তেই জমে উঠল পরিবেশ। অফিসাররা চমকে গেলেন—এ কি স্রেফ কোনও মেলোড্রামা, না কি বাস্তব জীবনের কোনও ভয়ানক ছায়া?
ঘটনার সূত্রপাত ১২ বছর আগে। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন রাহুল ও পূজা। শামলির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বাড়ি, ছিমছাম সংসার, দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কও ভালোই ছিল। কিন্তু গত একবছর যেন বদলে যেতে শুরু করল সব কিছু।
পূজার স্বভাব পাল্টে যেতে লাগল। মোবাইলে লুকিয়ে কথা বলা, হঠাৎ হঠাৎ বাইরে যাওয়া, রাতে অজুহাতে ঘুম না হওয়া—রাহুল কিছু বুঝতে পারছিলেন না, কিন্তু কেমন একটা অস্বস্তি তীব্র হচ্ছিল। শেষে হঠাৎ একদিন, ফোনে ধরা পড়ে যায় সব। প্রতিবেশী এক যুবক—সৌরভের সঙ্গে সম্পর্ক।
রাহুল ভেঙে পড়েছিলেন। রাগে, অপমানে, দুঃখে পূজাকে পাঠিয়ে দেন মিরাটে বাপের বাড়ি। ভেবেছিলেন হয়তো সময় দিলে পূজা বুঝতে পারবে ভুলটা কোথায়। কিন্তু পঞ্চম দিনেই পূজা, সৌরভকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন রাহুলের বাড়িতে—চোখে বিদ্রোহ, মুখে আক্রোশ।
“এই বাড়িতে আমি থাকবই। রাহুলের কিছু বলার অধিকার নেই,” বলে শুরু করেন পূজা। বাড়িতে শুরু হয় চেঁচামেচি, ভাঙচুর। রাহুলের ছোট ভাই বাধা দিতে গেলে, তাকেও হেনস্থা করেন সৌরভ। প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। কেউ কেউ ভিডিও তোলে, কেউ ফোন করেন থানায়। কিন্তু পূজা কোনওভাবেই ফিরতে রাজি নন।
সেদিনই রাহুল ও তাঁর শাশুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন—পূজা ও তাঁর প্রেমিক সৌরভ একসঙ্গে রাহুলকে খুন করার পরিকল্পনা করছে। শাশুড়ির কণ্ঠে কাঁপা আতঙ্ক—“আমার মেয়েকে আমি জানি। ও এখন অন্ধ ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে গেছে। যা খুশি করতে পারে!”
থানার অফিসাররা বিষয়টিকে গা ছাড়া করেননি। তাঁরা জানেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলে মনের জটিলতা অনেক সময় ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুলিশ শুরু করে নজরদারি—বিশেষ করে পূজার ফোন লোকেশন, গতিবিধি সব কিছুতেই রাখা হয় নজর। তবে কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।
তবু, রাহুল আর তাঁর পরিবার রাতের ঘুম হারিয়েছে। প্রতিটি শব্দে চমকে ওঠে, অচেনা পায়ের আওয়াজেও ভয় করে। সৌরভের গতিপথ যেন কেমন রহস্যময়। তিনি মাঝে মাঝেই লুকিয়ে দেখা করেন পূজার সঙ্গে, রাতের অন্ধকারে।
এই এক অদ্ভুত ছায়া, যা এখন একটা গোটা পরিবারকে গ্রাস করে ফেলেছে। সম্পর্ক যখন বিষ হয়ে ওঠে, তখন তার বিষক্রিয়া কতটা গভীর হতে পারে—তা যেন নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছে শামলির মানুষ।
গল্পের শেষ এখনও লেখা হয়নি। পুলিশ খুঁজছে সত্যের টুকরো টুকরো প্রমাণ। রাহুল প্রতিদিন বাঁচার আশা করেন, আর তাঁর শাশুড়ি—এক মা—প্রতিদিন চান, তাঁর মেয়ে যেন এমন পথ থেকে ফিরে আসে, যা শুধুই ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।
কে জানে, এই ছায়ার মধ্যে আলো ফিরবে কি না! অথবা, ছায়াটাই ছায়া রয়ে যাবে—এক অসমাপ্ত গল্পের মতো।
বিঃদ্রঃ – উতর প্রদেশের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত। গল্পের চরিত্রদের নাম পরিবর্তিত।
|| সমাপ্ত ||

