HomeহুগলীHooghly: নলকূপে স্বামীর বডি

Hooghly: নলকূপে স্বামীর বডি

নীরবতা কখনও কখনও অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়।

দুর্গাবাটি গ্রামে বসবাস করতেন রবিন চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী মীনাক্ষী। বাইরের চোখে তাঁরা এক সাধারণ দম্পতি, কিন্তু ঘরের চার দেওয়ালের ভেতর চলত ভয়াবহ অত্যাচার।

রবিন দিনমজুর ছিলেন, কিন্তু মদের নেশা তাকে গ্রাস করেছিল। প্রতিদিন সন্ধে হলেই মাতাল হয়ে ফিরতেন, আর শুরু হতো মীনাক্ষীর ওপর অকথ্য নির্যাতন। গালাগালি, মারধর, অপমান—সবই সহ্য করতেন মীনাক্ষী, কারণ তিনি চেয়েছিলেন সংসারটা না ভাঙুক। কিন্তু সহ্যের সীমা যে একদিন ফুরায়।

ঘটনার সূত্রপাত যখন রবিন এক রাতে মদ খেয়ে মীনাক্ষীকে এতটাই মারধর করেন যে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরদিন সকালেও রবিন কোনও অনুশোচনা না করে আবার মদ খেতে চলে যান। তখনই মীনাক্ষী প্রথমবার নিজের বোন ও দুলাভাইকে সব খুলে বলেন।

তিনজন মিলে পরিকল্পনা করে, আর এক রাতে রবিন মাতাল হয়ে ফিরে এলে, তাঁকে একটা দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে ফেলা হয়। সেই রাতেই তার দেহ তুলে বোনের স্বামীর টোটোতে করে দূরের এক পাড়ার পরিত্যক্ত নলকূপে ফেলে আসা হয়।

রবিন নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরদিন থেকেই গ্রামে শুরু হয় গুঞ্জন। দিন গড়ায়। একমাস পর রবিনের দাদা বাবলা চক্রবর্তী স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন যে, তাঁর ভাইয়ের গায়েব হওয়ার পেছনে তাঁর বউয়ের হাত আছে।

তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে সবাই চুপ করে থাকলেও পুলিশের চাপান-উতোরে শেষমেশ সত্যি ফাঁস করে দেন মীনাক্ষী ও তাঁর পরিবার। মৃতদেহ উদ্ধার হয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে। ডিএনএ পরীক্ষা, ফরেনসিক তদন্ত—সবই চলছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রকাশ সেন জানান, “এই ঘটনা আমাদের সমাজে এক ভয়ঙ্কর ছবি তুলে ধরছে। যেখানে ঘরোয়া হিংসা, সহ্য করা, এবং শেষে চরম প্রতিক্রিয়া—এই তিনটি ধাপে একটি জীবন শেষ হয়ে যায়।”

এই গল্প আমাদের শিক্ষা দেয়, সহ্য করে যাওয়াই সমাধান নয়। নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলা দরকার। আইন আছে, আশ্রয় আছে—প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারই পথ।
নীরবতা কখনও কখনও অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়। আর প্রতিশোধ—তা কেবল আরও অন্ধকার ডেকে আনে।

সমাধান হোক সাহসে, আইনেই হোক বিচার।

বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।

|| সমাপ্ত  ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন