রাঁচির এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে, কানিকা অনভ, আজ হাজারো তরুণ-তরুণীর কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। বয়স মাত্র ২৮, আর এর মধ্যেই তিনি ভারতের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা UPSC-এর Indian Forest Service (IFoS) বিভাগে AIR 1 পেয়ে দেশজুড়ে আলোচিত।
কানিকা ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। JVM শ্যামলী স্কুল, রাঁচি থেকে স্কুলজীবন শেষ করার পর, উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি চলে যান দিল্লি। স্নাতক শেষ করেন মিরান্ডা হাউস, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর স্নাতকোত্তর করেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) থেকে। গবেষণার প্রতি আকর্ষণ থাকলেও ২০২১ সালে PhD মাঝপথে ছেড়ে দেন তিনি—কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল একটাই: UPSC।
এই সময়টা ছিল কঠিন। গবেষণার নিরাপদ পথ ছেড়ে কানিকা বেছে নেন অজানার দিকে পা বাড়ানো। পরিবার ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় সহায়। তাঁর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারক অভয় কুমার সিংহ, আর মা, গৃহিণী অনিতা সিংহ—দুজনেই মেয়ের স্বপ্নে শক্তি যোগান।
কানিকা দিল্লিতে কোচিং শুরু করেন, দিনরাত এক করে প্রস্তুতি নেন। একের পর এক মক টেস্ট, উত্তর লেখার অনুশীলন, বিশাল সিলেবাস—সব কিছুই তিনি ভেঙে পড়ার মতো কঠিনভাবে সামাল দেন। কিন্তু প্রথম দুটি প্রচেষ্টায় তাঁকে মুখোমুখি হতে হয় ব্যর্থতার।
তবে কানিকার বিশেষত্ব এখানেই—তিনি হাল ছাড়েননি।
তৃতীয় চেষ্টায় কানিকা সেই পরিশ্রমের প্রতিদান পেলেন। তিনি শুধু UPSC IFS পরীক্ষায় উত্তীর্ণই হলেন না, সমগ্র দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ইতিহাস গড়লেন।
আজ কানিকার এই যাত্রা শুধু তাঁর নিজের নয়, এটি প্রতিটি সেই ছাত্রছাত্রীর গল্প যারা স্বপ্ন দেখে, যারা ব্যর্থতার পরেও দাঁড়িয়ে যায়, যারা মনে রাখে—“অসফলতা শেষ নয়, তা হয়তো সাফল্যের সূচনা।”
উপসংহার:
কানিকা অনভ প্রমাণ করেছেন, সাহস, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—‘সুন্দর মুখ নয়, সুন্দর মনের জোরেই জয় আসে।’

