HomeAllNadia: ফুলের অপরাধ

Nadia: ফুলের অপরাধ

প্রশ্ন রয়ে গেল—এই সমাজে কারা সত্যিকারের অপরাধী?

সুবর্ণপুর গ্রামের শান্তিপূর্ণ সকালগুলোতে পাখির ডাকের সঙ্গে রোজ মিশে থাকত সরোজিনী দত্তের নরম পায়ের শব্দ। প্রতিদিন ভোর হতেই তিনি হাতের ঝুড়ি নিয়ে বেরোতেন গ্রামের মন্দিরে ফুল দেওয়ার জন্য। কারও জমির গাছ থেকে কয়েকটি গন্ধরাজ কিংবা জুঁই তুলতেন। কাউকে ক্ষতি করতেন না—শুধু প্রভাতের পবিত্রতা খুঁজে বেড়াতেন।

কিন্তু সেই ভোর একেবারে অন্যরকম ছিল।

মন্দির সংলগ্ন এলাকার প্রভাবশালী পরিবার ছিল করণা দাসদের। পরিবারের ছেলে রবিন দাস স্থানীয় থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। সেই ভোরে, গ্রামের ফুলগাছের পাশে দেখা হয় তাঁর সঙ্গে সরোজিনীর। শুরু হয় অপমান। “চুরি করছে! গ্রেপ্তার করে দেব!”—চিৎকার করে উঠেছিল রবিন।

বৃদ্ধা নারী কাঁপতে কাঁপতে বলেছিলেন, “আমি শুধু পূজোর জন্য দুটি ফুল তুলছিলাম বাবা…”

কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। সেদিন গাছে ফুল তোলার অপরাধে, এক নারীকে কান ধরে উঠবস করানো হয়, গ্রামবাসীদের সামনে। তাঁকে বেঁধে রাখা হয় বাড়ির উঠোনে। আরও অপমান, আরও ঠাট্টা—এই ভেবেই ঘরে ফিরেছিলেন সরোজিনী।

তাঁর মেয়ে মণিমালা দত্ত সন্ধ্যায় কাজে গিয়েছিলেন শহরে। বাড়ি ফাঁকা ছিল। রাত পেরিয়ে শনিবার সকালে গোয়ালঘরে ফিরে দেখা গেল—মা আর বেঁচে নেই। ফ্যানের হুক থেকে ঝুলছে তাঁর দেহ।

প্রথমে সবাই ভাবল আত্মহত্যা। কিন্তু মণিমালা জানত, তাঁর মা এমন কাজ করতে পারেন না। তার দাবি, “এই অপমান, এই নির্যাতন ওর শরীর নয়, মন মেরে ফেলেছে। তবে মা নিজে দড়ি বাঁধেনি। ওই লোকগুলোর হাতেই মা খুন হয়েছে।”

তড়িঘড়ি থানায় অভিযোগ জানানো হল। কিন্তু আশ্চর্যভাবে অভিযুক্ত পরিবার গায়েব। রবিন দাস, সেই সিভিক ভলান্টিয়ার, যার গলায় সবসময় শোনা যেত “আমি পুলিশের লোক”—সে-ই এখন বেপাত্তা।

গ্রামে শুরু হয়েছে গুঞ্জন, রাগ, আর ভয়।
কেউ বলছে, “আজ ফুল তোলায় অপমান। কাল হয়তো আমরা নিশানা হব।”

সরোজিনীর মৃত্যু ছিল না শুধু এক নারীর—তা ছিল সমাজের বিবেকের মৃত্যু, যেখানে ক্ষমতা মানুষের উপর নয়, অহঙ্কারের হয়ে যায়।

শেষ কথা:
একটি ফুল তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল সরোজিনীর। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল—এই সমাজে কারা সত্যিকারের অপরাধী? যারা গাছ থেকে ফুল তোলে, না যারা মানুষকে মিথ্যে দম্ভে চূর্ণ করে?

এমন মৃত্যুর দায় একা একজনের নয়—পুরো সমাজের।

বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।

|| সমাপ্ত  ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন