HomeAllBurdwan: রক্তমাখা রুটি

Burdwan: রক্তমাখা রুটি

পাখির ডাক আর ভেসে আসা পরোটা ভাজার গন্ধে ভরপুর বাতাস। গ্রামের মোড়ে বছর বাহাত্তরের প্রবীণ মুদি ব্যবসায়ী হরিপদ মল্লিক প্রতিদিনের মতোই তাঁর ছোট্ট দোকান খুলেছেন। ধুতি আর গেঞ্জি পরা এই মানুষটিকে গ্রামের সকলে সম্মান করে, কারণ গত ৪০ বছর ধরে তিনি কারোর না কারোর দুঃখের দিনে ভরসা হয়েছেন।

কিন্তু সেই বুধবারের সন্ধ্যা, অন্যরকম।

বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসছে, এমন সময় তাঁর দোকানে ঢুকলেন দীপক হাঁসদা — গ্রামের এক বেকার যুবক, কিছুটা খিটখিটে মেজাজের অধিকারী। হাতে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ, যার ভেতরে কিছু আটা।

“এই যে হরিপদ কাকা, এই আটা তোমার দোকান থেকে গতকাল কিনেছিলাম। পুরোটাই নকল! রুটি বানাতে গিয়ে সব ছিঁড়ে যাচ্ছে,” চিৎকারে ফেটে পড়ল দীপক।

হরিপদ প্রথমে শান্তভাবে বললেন, “দীপক, আমি আটা বানাই না, সরবরাহকারী আনে। যদি খারাপ হয়, বদলে দিচ্ছি। গালাগালি কোরো না।”

কিন্তু দীপকের মেজাজ তখন হিমালয়ের ঝড়। গালাগাল দিতে দিতে সে পাশের বাঁশঝাড় থেকে একটা মোটা বাঁশের লাঠি তুলে এনে একদম সামনে দাঁড়িয়ে যায়।

“তুই ঠকাবি আমাকে! বুড়ো লোক হলেও ছাড়ব না,” বলে সজোরে এক আঘাত হরিপদের মাথায়।

এক মুহূর্তে রক্ত! দোকানের মেঝে রাঙা হয়ে উঠল। হরিপদ ছটফট করছেন, আর আশপাশে জড়ো হওয়া লোকজন হতবাক। কেউ কেউ চিৎকার করে উঠল, কেউ ভিডিও করতে শুরু করল—কারণ এটাই এখনকার চর্চা। আর দীপক? সে লাঠি ফেলে গা ঢাকা দিল পাশের আলের ফাঁকে।

হরিপদের ছেলে, রাজীব মল্লিক, বাবাকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গিয়েছে। রক্ত অনেকটা বেরিয়ে গিয়েছে। চিকিৎসক জানিয়ে দিলেন — “দুঃখিত, উনি আর নেই।”

খবর ছড়াতে শুরু করল আগুনের মতো। রাত পেরোনোর আগেই পুলিশ এসে গ্রামে পৌঁছায়। খোঁজখবর চালিয়ে ভোরবেলা দীপক হাঁসদাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের জেরায় সে স্বীকার করে নেয় — “রাগের মাথায় মারি দিয়েছিলাম, মরবে ভাবিনি।”

অতিরিক্ত পুলিশ আধিকারিক বিকাশ সেন বলেন, “একটা আটার প্যাকেট যদি কাউকে এতটা রেগে দিতে পারে যে একজনকে খুন করতে পারে, তাহলে এটা শুধু একটা খুন নয় — এটা সমাজের সহ্যক্ষমতার মৃত্যুও।”

হরিপদের মৃত্যুতে গ্রাম স্তব্ধ। সকলে বলছে, “তিনি শুধু দোকানি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সবার আপনজন।”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন