কদমপুর শহর। গত কয়েকদিন ধরে শহরের অলিগলিতে, কফি হাউসের আড্ডায়, এমনকি ভিড়ভাট্টা বাজারেও একটাই গুঞ্জন—
“লারা আর তার ছেলেকে কোথায় নিয়ে গেল?”
লারা—এক বিদেশিনী, যাকে কদমপুরের ব্যবসায়ী রাহুল সেন ভালোবেসে বিয়ে করেছিল সাত বছর আগে। ২০২০ সালে জন্মায় তাদের ছেলে অয়ন। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় ঝগড়া, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ। একদিন খবর এল, লারার বিরুদ্ধে অয়নের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। মামলা গড়াল কদমপুর থেকে সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালত—মহাদেশীয় সুপ্রিম কোর্টে।
কয়েকমাস শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেয়—
“সপ্তাহে তিন দিন ছেলেটা মায়ের কাছে, আর চার দিন বাবার কাছে থাকবে।”
সবাই ভেবেছিল ঝড় থেমে গেছে। কিন্তু ঝড় তো সবে শুরু!
গত ৭ জুলাই রাহুল নিজের হাতে অয়নকে দিয়ে এল লারার কাছে। সেই রাতে লারা তাকে নিয়ে ছিল কদমপুরের উপকণ্ঠের এক অতিথিশালায়। আর পরদিন সকালেই… গায়েব!
প্রথমে সবাই ভেবেছিল, হয়তো শহরের অন্য কোথাও গেছে। কিন্তু দিন গড়ালেও লারা বা অয়নের কোনো খোঁজ নেই।
খবর পৌঁছাল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতিরা ভ্রু কুঁচকালেন।
“অবিলম্বে খুঁজে বের করুক প্রশাসন!”
দেশের সব বিমানবন্দর, নদীবন্দর, সীমান্তে পাঠানো হল খোঁজের নির্দেশ। জারি হল লুকআউট নোটিস।
তবু কোথাও কোনো সাড়া নেই।
হঠাৎ একদিন, আদালতের শুনানিতে হাজির হলেন সরকারের এক প্রতিনিধি। হাতে মোটা ফাইল, চোখে তীব্রতা—
“স্যার, আমরা লারার আইপি ট্র্যাক করেছি। দেখা যাচ্ছে, তিনি কদমপুর থেকে প্রথমে গেছেন দারগাঁও, সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি ভিকুপুর হয়ে আরবের পথে, আর সেখান থেকে উড়ে গেছেন নিজের দেশে—নর্দেনিয়া!”
আদালত স্তব্ধ। রাহুলের পরিবার চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।
“মানে? ছেলের পাসপোর্ট তো আদালতের কক্ষে জমা! তবে সে কীভাবে বেরোল?”
এক বিচারপতি টেবিল চাপড়ে বললেন,
“এটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না! অবিলম্বে রেড কর্নার নোটিস জারি করতে হবে।”
শহরে ফের নতুন গুঞ্জন—
“তাহলে কি গুপ্তচর ছিল লারা? নাকি অন্য কোনো রহস্য?”
বাজারে চায়ের কাপ হাতে বাবুর্চিরাও বলছে,
“কী সিনেমার মতো গল্প! বিদেশিনী, বাচ্চা, আর এক নিখোঁজ যাত্রা!”
রাহুল বসে আছে কদমপুরের বাড়ির বারান্দায়, ছেলেটার খেলনা শক্ত করে ধরে। তার চোখে একটাই প্রার্থনা—
“অয়নকে ফিরিয়ে দাও… এই রহস্যের পর্দা একদিন তো ফাটবেই।”
এভাবেই কদমপুরের রাস্তাঘাটে আজও ভেসে বেড়ায় সেই অদ্ভুত রহস্যের গল্প—
“লারা কোথায় গেল?”
বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।
|| সমাপ্ত ||

