HomeAllPurulia: টয়লেট

Purulia: টয়লেট

স্কুলে গিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে বসে একটা গল্প শোনালেন—

এক ছিল ছোট্ট এক গ্রাম—নাম তার হরিদারা। কাগজে-কলমে সেই গ্রামকে কয়েক বছর আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল “নির্মল গ্রাম”
পঞ্চায়েত প্রধানের স্বাক্ষর করা সনদও টাঙানো ছিল গ্রামের পঞ্চায়েত ভবনের দেয়ালে।
গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় তৈরি করে দিয়েছিল প্রশাসন।

কিন্তু সেখানে গিয়ে যা দেখা গেল, তা দেখে শহর থেকে আসা স্বাস্থ্যকর্মী রীনা মুখ হাঁ করে রইলেন।

হরিদারার প্রতিটি শৌচালয়ই তালা বন্ধ। কেউ সেখানে কাঠ রাখছে, কেউ শস্যের বস্তা, কেউ আবার ব্যবহার করছে গোয়ালঘরের মতো করে।
তবুও গ্রামটি কাগজে নির্মল!

রীনা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন গ্রামের এক বৃদ্ধাকে—
“আপনাদের তো শৌচালয় আছে! তবুও খোলা জায়গায় যান কেন?”

বৃদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“ওই ঘরে বসে কাজ করা যায় নাকি মা? জল নেই, গন্ধে ভরে আছে। আর আমাদের তো ছোটবেলা থেকেই অভ্যেস মাঠে যাওয়া। ও ঘরে গেলে দম বন্ধ হয়ে আসে।”

রীনা মুচকি হেসে বললেন,
“ঠিক আছে দিদা, কিন্তু খোলা জায়গায় গেলে জীবাণু ছড়ায়, রোগ ছড়ায়। আপনার নাতি-নাতনিদের জন্য হলেও একটু ভেবে দেখুন। আপনাদের জন্যই তো সরকার ঘরে ঘরে শৌচালয় করে দিয়েছে।”

তিনি গ্রামের স্কুলে গিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে বসে একটা গল্প শোনালেন—
“এক গ্রামে একসময় সবাই খোলা মাঠে যেত। একদিন গ্রামের অর্ধেক লোক অসুখে পড়ে গেল। ডাক্তার এসে বলল, ‘জল আর খাবার সব নোংরা হয়ে গেছে। তোমরা যদি ঘরের ভেতর শৌচালয় ব্যবহার করতে, তবে এমন হতো না।’ সেই থেকে সবাই শৌচালয় ব্যবহার শুরু করল। আর কখনও অসুখ হলো না।”

ছোট্ট বাচ্চারা হাততালি দিল, আর বড়রাও কৌতূহলী হয়ে শোনাল।
রীনা তারপর সবাইকে নিয়ে গেল শৌচালয়গুলোয়। পরিষ্কার করল, বোঝাল কীভাবে সামান্য জল মজুত করে ব্যবহার করা যায়, কীভাবে শৌচালয়টাকে নোংরা না রেখে সাজিয়ে রাখা যায়।

কয়েক সপ্তাহ পর হরিদারার মাঠগুলো খালি হতে শুরু করল।
সকালে আর দেখা গেল না কেউ মাঠে বসে আছে।
বৃদ্ধা দিদা রীনাকে ডেকে বললেন—
“মা, তোর গল্পটা মনে আছে? সেই অসুখের গল্প… আমরা আর অসুখ চাই না। এখন থেকে সবাই শৌচালয়েই যাব।”

রীনা হেসে বলল,
“এই তো চাই! পরিষ্কার গ্রাম, সুস্থ গ্রাম।

এভাবেই হরিদারার মানুষরা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল—গল্প শুনে, সচেতন হয়ে, আর নিজেদের আর পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষা করার ইচ্ছে থেকে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন