প্রাণীজগতে কত শত অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ডাঙ্গায় কিংবা জলে বসবাসকারী প্রাণীদের শ্বসনতন্ত্রের কথা বললে সাধারণত ফুসফুস, ফুলকা বা চামড়ার কথা মাথায় আসে। তবে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য— কিছু প্রজাতির কচ্ছপ তাদের নিতম্ব বা পিঠের পেছনের অংশ দিয়ে শ্বাস নিতে সক্ষম!
বিজ্ঞান জগতে কচ্ছপের এই বিশেষ শারীরিক প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত অদ্ভুত এক প্রাকৃতিক অভিযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ক্লোয়েক্যাল রেসপিরেশন (Cloacal Respiration) কী?
সব কচ্ছপ না পারলেও, প্রধানত নির্দিষ্ট কিছু স্বাদু জলের (Freshwater Turtles) কচ্ছপ এই অদ্ভুত উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালাতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো কিছু প্রজাতির কচ্ছপ তাদের নিতম্ব বা ক্লোয়েকা দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালাতে পারে। এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ক্লোয়েক্যাল রেসপিরেশন (Cloacal Respiration)।
কচ্ছপের অদ্ভুত শ্বসনতন্ত্রের মূল বিষয়সমূহ:
• প্রধান অঙ্গ: ক্লোয়েকা (Cloaca) — যা কচ্ছপের মলমূত্র ত্যাগ এবং প্রজননের পাশাপাশি শ্বসন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
• রক্তনালীর উপস্থিতি: ক্লোয়েকার থলিতে প্রচুর পরিমাণে অত্যন্ত সূক্ষ্ম রক্তনালী (Vascularized Bursae) থাকে।
• অক্সিজেন গ্রহণ: জলের নিচে থাকার সময় ক্লোয়েকার মাধ্যমে জল ভেতরে টেনে সেখান থেকে সরাসরি রক্তে অক্সিজেন শোষণ করা হয়।
কেন বা কখন কচ্ছপ এই উপায়ে শ্বাস নেয়?
প্রকৃতি এদের শরীরকে এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে প্রতিকূল পরিবেশেও এরা বেঁচে থাকতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে বা দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে:
- শীতঘুম বা হাইবারনেশন (Hibernation): ঠান্ডা অঞ্চলে যখন নদী বা পুকুরের উপরিভাগ বরফে ঢেকে যায়, তখন কচ্ছপ জলের গভীরে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেয়। তখন জলের উপরে উঠে ফুসফুস দিয়ে ফুসফুসীয় শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া সম্ভব হয় না।
- শক্তি সঞ্চয়: এই উপায়ে অক্সিজেন গ্রহণ করলে কচ্ছপকে সাঁতার কেটে বারবার উপরে উঠতে হয় না, ফলে শরীরে বিপুল শক্তি সঞ্চিত থাকে।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ফিটজরয় রিভার কচ্ছপ (Fitzroy River Turtle) এবং উত্তর আমেরিকার পেইন্টেড কচ্ছপ (Painted Turtle) এই ধরনের চমৎকার ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।
________

