HomeহুগলীDankuni Story: সাক্ষী বর্ধমান লোকাল

Dankuni Story: সাক্ষী বর্ধমান লোকাল

অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গরম দুপুরে চিরচেনা ভিড়ে গমগম করছিল কুশীবাজার স্টেশন। ব্যস্ততা যেন ছিল ছন্দে বাঁধা—হাওড়া, শ্যামবাজার, সোনারপুর সব শাখার ট্রেন ছুটছিল নিজস্ব গতিতে। প্ল্যাটফর্মে হাঁটছিল ক্লান্ত শ্রমিক, অফিসফেরা কর্মচারী, বই হাতে কলেজ পড়ুয়া আর বিক্রেতারা। আর ঠিক তখনই, যখন কেউ কল্পনাও করেনি, ঘটে গেল এক বিভীষিকাময় দৃশ্য।

ফুট ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন বছর পঁয়তাল্লিশের মুকুল হোসেন। পরনে ছিল মলিন শার্ট, চোখে একরাশ অবসাদ। অনেক যাত্রীর চোখে হয়তো পড়ে থাকলেও কেউ আলাদা করে তাঁকে খেয়াল করেনি। কারণ, তিনি ছিলেন অনেকের মতোই—একজন সাধারণ, নীরব মানুষ।

দুপুর দেড়টা নাগাদ, যখন একটি বর্ধমান লোকাল ট্রেন কর্ড লাইনের পথে ঢুকছে, তখন আচমকা সবাইকে হতবাক করে দিয়ে ওভারব্রিজ থেকে নিচে ঝাঁপ দেন মুকুল। মুহূর্তেই তাঁর দেহ হাইভোল্টেজ তারে আটকে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মূহূর্তে গলে যায় শরীরের বেশিরভাগ অংশ। এরপর সেই জ্বলন্ত দেহ ছিটকে পড়ে ট্রেনের ছাদে।

যাত্রীরা আঁতকে ওঠেন, কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়, কেউ কাঁপতে কাঁপতে মোবাইলে ছবি তোলে, কেউ আবার ছুটে গিয়ে রেল পুলিশের খবর দেয়।

কুশীবাজার থানার পুলিশ ও GRP এসে দেহ উদ্ধার করে। খবর যায় তাঁর বাড়ি—পূর্ব কুশীর একটি ছোট্ট ভাঙা বাড়িতে। সেখানেই বসবাস করতেন মা, স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে সোনালি। স্ত্রী বললেন, “মুকুল কিছুদিন ধরেই অদ্ভুত আচরণ করছিলেন। রাতে ঘুমোতেন না, কাউকে কিছু না বলে বাইরে চলে যেতেন। আমরা ভাবতাম কাজের চাপ… কিন্তু কে জানত, এমন কিছু করবে!”

পাড়ার লোকেরা জানান, আগে রঙের কাজ করতেন মুকুল। কিন্তু কোভিডের পর কাজ হারান। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একটা ক্ষোভ, একটা শূন্যতা তাঁকে ভেতর থেকে গিলে খাচ্ছিল। কেউ হয়তো বুঝেছিল, কিন্তু কেউই যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

পুলিশ জানায়, এটি একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যা। তবে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মানসিক বিষণ্ণতাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

স্টেশনে আবার চলেছে ট্রেন, যাত্রীরা আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গন্তব্যে পৌঁছনোর তাড়ায়। কিন্তু সেই ওভারব্রিজের ধারে একটা পোড়া দাগ থেকে গেছে, আর কিছু লোকের মনে রয়ে গেছে এক মুহূর্তে ঘটে যাওয়া জীবনের শেষ ঝাঁপের স্মৃতি।

এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা যায় না। অবসাদের নীরব কণ্ঠস্বর অনেক সময় এমন ভয়ানক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের প্রয়োজন যতটা না চোখে দেখা, তার চেয়ে বেশি শোনা এবং বোঝা।

বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।

|| সমাপ্ত  ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন