গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে গ্রাম। মাঠের ফসল শুকিয়ে খড়ের মতো ভঙ্গুর হয়ে গেছে, নদীর জল কমতে কমতে নালার মতো হয়ে গেছে। সকাল হলেই গ্রামের মহিলারা কলসি হাতে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু আজকাল কুয়োতেও জল নেই।
“মা, জল আনতে যাচ্ছো?”—নয় বছরের ছোট্ট রিনা মায়ের শাড়ির আঁচল ধরে টান দেয়।
“হ্যাঁ মা, তবে আজ জল পাওয়া যাবে কিনা জানি না!”—ক্লান্ত গলায় উত্তর দেন সুচিত্রা।
সকাল থেকে গ্রামের একমাত্র টিউবওয়েলের সামনে লম্বা লাইন। কেউ কেউ কাঁধে বালতি নিয়ে অন্য গ্রামে যাচ্ছে, কেউ আবার অপেক্ষা করছে যদি এক ফোঁটা জল পাওয়া যায়।
বিকল্পের সন্ধান
যখন আর কোনও উপায় রইল না, গ্রামের কয়েকজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন—পুকুরের জল ফুটিয়ে পান করবেন।
“পুকুরের জল খেলে পেটের অসুখ হবে না তো?”—দুশ্চিন্তার সুরে বললেন বুড়ো রমেশ কাকা।
“অন্য কোনও উপায় আছে?”—জল আনতে আসা এক গৃহবধূ হতাশ হয়ে বললেন।
গ্রামের পুকুরটিও ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসছে। জল কাদামাটির মতো ঘোলা, মাঝে মাঝে মশার লার্ভা ভাসছে। কিন্তু আর উপায় কী?
সুচিত্রা পুকুরের জল ভরে ঘরে ফিরল। চুলায় হাঁড়ি বসিয়ে জল ফুটিয়ে নিল। ছোট্ট রিনার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
“মা, জল তো নোংরা!”
“ফুটিয়ে নিলেই ঠিক হবে মা, আমাদের তো এখন এটাই খেতে হবে!”—মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
জীবনের কঠোর বাস্তবতা
কিন্তু এই জলেও সমাধান আসেনি। কয়েকদিন পর থেকেই গ্রামের অনেকের পেটব্যথা, জ্বর শুরু হল। ছোট ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ল।
গ্রামের প্রধান শহরে গিয়ে জানালেন, “আমাদের গ্রামে এক ফোঁটা পরিষ্কার জল নেই! কিছু করুন!”
কিন্তু শহরের লোকদেরও কম কষ্ট নয়। তারাও জলের জন্য সংগ্রাম করছে।
একটি স্বপ্ন
রিনা একদিন ক্লান্ত গলায় মাকে বলল, “মা, আমাদের গ্রামে যদি একটা বড় পুকুর থাকত! যদি অনেক জল থাকত!”
সুচিত্রা জানে, শুধু পুকুর থাকলেই হবে না, লাগবে গভীর নলকূপ, লাগবে সরকারি সাহায্য। কিন্তু এ কথা মেয়েকে বোঝাবে কীভাবে?
গ্রীষ্মের প্রতিটি দিন যেন কঠিন পরীক্ষার মতো কেটে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষের একটাই আশা—আকাশ কাঁদুক, এক পশলা বৃষ্টি হোক। তৃষ্ণার্ত দিনগুলো যেন আর না ফিরে আসে!
বিঃ দ্রঃ – জল-সংকটের প্রতিচ্ছবির আকারে লিখিত এই গল্প।
|| সমাপ্ত ||

