Homeউত্তরবঙ্গAlipurduar: পিশাচ সন্তান

Alipurduar: পিশাচ সন্তান

"সব নারকেল গেল কোথায়?" কণ্ঠে শাসনের ঝাঁজ।

কুমারগ্রামের নিস্তব্ধ চা বাগান এলাকা। রাতের অন্ধকারে পাতা কাঁপে, হাওয়ার দমকে ফিসফিসিয়ে ওঠে দূরের নারকেল গাছ। সেই গাছ থেকেই শুরু হয়েছিল আজকের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়।

মোহন লোহোরা দিনভর কাজের শেষে স্ত্রীর হাত ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। সামনের আকাশে চাঁদের আলো পড়ে আছে গাছের পাতায়, কুয়াশা ঢেকে দিয়েছে রাস্তার শেষ প্রান্তটুকু। ঘরে পা রাখতেই মোহন থমকে দাঁড়ালেন। তাদের উঠোনের নারকেলগুলো উধাও!

চোখ সরু করে দেখলেন একমাত্র ছেলে, সাগর, উঠোনের এক কোণে বসে আছে। তার হাতে যেন এখনও নারকেলের আঁশ লেগে রয়েছে। সন্দেহ দানা বাঁধল মোহনের মনে।

“সব নারকেল গেল কোথায়?” কণ্ঠে শাসনের ঝাঁজ।

সাগর মাথা নিচু করে বসে রইল।

“আমি জিজ্ঞেস করছি, তুই কি চুরি করেছিস?”

সাগর এবার চোখ তুলে তাকাল, তার চোখে আগুনের ঝলক। বাবার মুখের সেই কটুকথা, প্রতিদিনের শাসন, দারিদ্র্যের জ্বালা—সব মিলিয়ে তার বুকের ভেতরে জেগে উঠল এক পশুর হিংস্রতা।

“হ্যাঁ, আমি নিয়েছি!”

মোহন রাগে জ্বলে উঠলেন। “তুই আমার সন্তান! আর তুই চোর?”

বাড়ির বাতাসে থমথমে উত্তেজনা। সাগর দাঁড়িয়ে পড়ল, তার মুঠো শক্ত হয়ে উঠল। “তুমি কি জানো, আমি কতদিন না খেয়ে থাকি? তোমার ওই নারকেল বেচেই তো তোমার মদ কেনার টাকা জোটে!”

এই কথা শুনে মোহন ধপ করে বসে পড়লেন। গালিগালাজ শুরু করলেন ছেলেকে। কিন্তু সাগর আর সহ্য করতে পারল না।

পাশে রাখা কুড়োলটা এক ঝটকায় তুলে নিল হাতে। তারপর…

সুপ্প!

একটা শব্দ। আর তাতেই থেমে গেল সমস্ত ঝগড়া।

মোহন লোহোরা কুড়োলের তীব্র কোপে ছিটকে পড়ে গেলেন মাটিতে। মাথা থেকে গলগল করে গরম রক্ত ছড়িয়ে পড়ল উঠোনে।

চিৎকার করে ছুটে এলেন মা। “সাগর, কী করলি তুই?”

কিন্তু তখন সে আর ছেলে নেই, সে এক পিশাচ। তার হাত কাঁপছিল না, বরং আরও একবার আঘাত করার জন্য সে প্রস্তুত। কিন্তু মায়ের বাধায় থমকে গেল।

বাইরের চায়ের পাতার ঝোপের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশীরা দৌড়ে এলেন। কেউ কিছু বোঝার আগেই দৃশ্যটা তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠল—মোহনের দেহ নিথর, তার স্ত্রী কাঁদছে, আর সাগরের হাতে রক্তমাখা কুড়োল।

এক মুহূর্তের রাগের আগুন সব কিছু শেষ করে দিল।

পুলিশ এসে সাগরকে ধরে নিয়ে গেল। এলাকাজুড়ে নেমে এল শোকের ছায়া। নারকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে একটা পুরো সংসার ধ্বংস হয়ে গেল।

আর উঠোনের কোণে পড়ে রইল একটা ভাঙা নারকেলের খোলা—যেন সাদা চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে… রক্তাক্ত এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।

বিঃ দ্রঃ – আলিপুর দুয়ারের ঘটনা অবলম্বনে গল্পের আকারে লিখিত। 

|| সমাপ্ত ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন