দার্জিলিঙের মানুষজনের কাছে গরম মানে সাধারণত কলকাতার বন্ধুদের গল্প শুনে একটু নাক সিঁটকানো। “আরে! আমাদের এখানে তো সকালে গরম জামা ছাড়া চলেই না!” — এমনই গর্বে ফেটে পড়ত তারা। কিন্তু ২০২৫-এর এই গরমে সে সব অহংকার গলে গিয়ে মিশে গেল রাস্তায় বয়ে যাওয়া গরম বাতাসে!
গ্যাংটকের এক নামজাদা টুপি বিক্রেতা চেমি লেপচা হঠাৎ লক্ষ্য করলেন, তাঁর দোকানের সামনে বিশাল লাইন। কিন্তু কেউই টুপি কিনছে না। সবাই বলছে, “দাদা, আইসক্রিম কোথায়?” প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরে শুনলেন, নিচের দোকানে রাম ভাইয়ের আইসক্রিম শেষ। সবাই তার টুপি ভেবে আইসক্রিমের ঠাণ্ডা আশা করছে!
বিজনবাড়িতে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, স্থানীয় পুজো কমিটির ছেলেরা মাইকিং করে ঘোষণা করল—”আজ বিকেল চারটের পর থেকে সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে, লাইনে দাঁড়িয়ে একজন দুটো আইসক্রিমের বেশি কিনবেন না!” কেউ কেউ তো ফ্রিজে জামা রেখে ঠান্ডা করে পরে পরছেন—“পাখা ঘোরে না, জামা তো ঠান্ডা হোক!”
এদিকে কার্শিয়াংয়ে এক ছোট্ট ছেলে, পেমা, আইসক্রিম খেতে খেতে বলছে,
“মা, শীতে আমি আইসক্রিম খেতে চাইলে বকো কেন? এবার গরমে তুমিও তো খাচ্ছ!”
মা বললেন, “তোর কথাতেই মনে হয় আইসক্রিম বিপ্লব শুরু হল রে!”
দার্জিলিঙে এখন বাঙালি পর্যটকদের পরিচয় হয় না “কে কেমন ঘুরলেন” প্রশ্নে, বরং:
“দাদা, কোথা থেকে আইসক্রিম কিনলেন? স্ট্রবেরি না ম্যাঙ্গো নিলেন?”
সেই পাহাড়, যেখানকার বাতাস একসময় চা আর শীতলতার সুবাস আনত, এখন সেখানে আইসক্রিমের প্যাকেট উড়ে বেড়ায়।
আর পাহাড় বলে—“কিছুটা গরমে হলেও মানুষ একটু মিষ্টি হাসে, তাতেই মজা!”
শেষ কথা:
পাহাড়ে গরমে কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, তবে কষ্ট ভাগাভাগি করে নেওয়ার আর একটাই মিষ্টি পথ—এক স্কুপ আইসক্রিম! 🍦😄
বিঃদ্রঃ – সাম্প্রতিক সময়ে প্রচণ্ড গরমের প্রভাব পরেছে উত্তরেও। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি টাই গল্পের আকারে লিখিত।
|| সমাপ্ত ||

