দুরন্ত বিকেলের রোদ। গ্রামের মোড়ে চায়ের দোকানের সামনেই জমে উঠেছে ভিড়। পাকা রাস্তার ধারে একটি বাড়ির গেটের সামনে শাড়ি পরা এক নারী বসে রয়েছেন মাথা উঁচু করে। পাশে কয়েকটি ব্যাগ, হাতে একটি ম্যারেজ সার্টিফিকেটের নকল কপি। চোখে জল নেই, কিন্তু গলায় দৃঢ়তা—“আমি ওর স্ত্রী, আমার স্বীকৃতি চাই। যতক্ষণ না পাই, এখানেই থাকব।”
এই চমকপ্রদ দৃশ্য দেখা গেল পশ্চিমবাংলার উত্তর প্রান্তের একটি শান্ত গ্রাম ময়ূরডাঙার খালপাড়ায়। পেশায় সেনা কর্মী অর্জুন বর্মণের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তাঁর প্রথম স্ত্রী শীলা রায় এসে বসে পড়েছেন স্বামীর বাড়ির সামনেই। স্থানীয়রা কেউ চুপ করে দেখছে, কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করছে।
শীলার অভিযোগ, “আমার আর অর্জুনের সম্পর্ক কলেজ জীবন থেকেই। আমরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করি ২০১৯ সালে। রেজিস্ট্রিও হয়। তখন ও কথা দেয় যে কয়েক বছরের মধ্যেই সামাজিক বিয়েও করবে। আমরা একসঙ্গে অনেক দিন ছিলাম। কিন্তু তারপর আচমকা সব বদলে গেল। কথা বন্ধ, সম্পর্ক শেষ।”
শীলা জানান, বছর খানেক আগে অর্জুন তাঁর বিরুদ্ধে ডিভোর্স কেস ফাইল করে স্থানীয় আদালতে। কিন্তু সেই মামলা শেষ হওয়ার আগেই অর্জুন নাকি গোপনে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করে ফেলেছে সম্প্রতি।
এ খবর পাওয়ার পর, সোমবারই শীলা নিজের বাবার সঙ্গে চলে আসেন অর্জুনের গ্রামে। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি হাতে রেজিস্ট্রির নথি নিয়ে বসে পড়েন অর্জুনের বাড়ির সামনে—ধরনায়। বলেন, “আমি আইনি স্ত্রী। ওর দ্বিতীয় বিয়ে বেআইনি। আমি আমার অধিকার চাই—স্বীকৃতি চাই, সম্মান চাই। না পাওয়া পর্যন্ত উঠব না।”
অর্জুনের সৎ বাবা, বৃদ্ধ কৃষক সুধাংশু মণ্ডল বলেন, “অর্জুন আমার স্ত্রীর প্রথম পক্ষের ছেলে। আমি আইনি অভিভাবক নই, তাই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। তবে আমি চাই, আইনের মাধ্যমে এর সমাধান হোক।”
ময়ূরডাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গ্রামে এখন শুধু একটি প্রশ্ন—এই জেদ, এই অপেক্ষা, এই লড়াই—শেষ পর্যন্ত কি নিজের সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারবে শীলা? নাকি এই গল্পও হারিয়ে যাবে আরও এক ‘অস্বীকৃত’ জীবনের কোণায়?
বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।
|| সমাপ্ত ||

