HomeOtol KinareAmazing Facts of animal: ডোরাকাটা মাছির যম

Amazing Facts of animal: ডোরাকাটা মাছির যম

প্রকৃতির নকশা মানুষকেও নানা প্রযুক্তিতে অনুপ্রাণিত করছে।

প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টিই যেন নিজস্ব এক রহস্য বহন করে। কোনো প্রাণীর শিং, কারও দাগ, কারও রং—সবই কোনো না কোনো কারণে গড়ে উঠেছে। আফ্রিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ছুটে চলা জেব্রাকে দেখলেই প্রশ্ন জাগে, কেন তার শরীর জুড়ে এত সুন্দর সাদা-কালো ডোরা-কাটা দাগ? শুধুই কি সৌন্দর্যের জন্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যুক্তরাজ্যে এক অভিনব পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। পরীক্ষায় একসঙ্গে রাখা হলো ঘোড়া ও জেব্রাকে, আর তাদের চারপাশে ছেড়ে দেওয়া হলো অসংখ্য বিরক্তিকর মাছি। ফলাফল ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। দেখা গেল, মাছি দুই প্রাণীর দিকেই সমানভাবে ছুটে আসছে, কিন্তু জেব্রার গায়ে গিয়ে বসতে পারছে না। অথচ ঘোড়ার শরীরে মাছিরা ধীরে ধীরে সার বেঁধে বসে পড়ছে অনায়াসে।

গবেষকরা ভিডিও ক্যামেরায় পুরো দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। পরে যখন ভিডিও ফ্রেম বাই ফ্রেম বিশ্লেষণ করা হলো, তখনই পরিষ্কার বোঝা গেল আসল রহস্যটা কোথায়। দেখা গেল, মাছিরা যখন ঘোড়ার দিকে যাচ্ছে, তখন তারা ধীর গতিতে ঘোড়ার গায়ে নেমে আসছে এবং একে একে বসে যাচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে যখন তারা জেব্রার শরীরের দিকে উড়ে যায়, তখন ডোরা-কাটা দাগের কারণে যেন তাদের চোখ বিভ্রান্ত হয়ে যায়।

ফলাফল আরও মজার। মাছিরা কেউ ডোরা দেখে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে, আবার কেউ হঠাৎ পথ হারিয়ে উড়ে চলে যাচ্ছে অন্যদিকে। অর্থাৎ, জেব্রার শরীরের ডোরাগুলো মাছির দৃষ্টিশক্তিকে এমনভাবে বিভ্রান্ত করে দেয় যে, তারা সরাসরি গায়ে বসতে পারে না।

পরীক্ষার এখানেই শেষ নয়। বিজ্ঞানীরা আরও নিশ্চিত হতে চাইলেন। তাই তারা কয়েকটি ঘোড়ার গায়ে বিশেষ ধরনের কোট পরালেন, যেটি দেখতে হুবহু জেব্রার ডোরা-কাটা চামড়ার মতো। এবার দেখা গেল, সেই কোটের ওপরও মাছিরা বসতে পারছে না। তারা বারবার চেষ্টা করছে, কিন্তু ডোরার বিভ্রান্তিতে ধাক্কা খেয়ে সরে যাচ্ছে। অথচ একই ঘোড়ার খোলা মাথায় মাছিরা সহজেই গিয়ে বসছে।

এই পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন—জেব্রার শরীরের ডোরা শুধুই সৌন্দর্যের বাহার নয়, বরং এটি প্রকৃতির এক অসাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিবর্তনের পথে এই ডোরা তৈরি হয়েছে বিশেষভাবে মাছি এবং অন্যান্য রক্তচোষা কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

বিজ্ঞানীরা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, জেব্রা যেখানে থাকে সেই আফ্রিকার পরিবেশে নানা ধরনের মাছি, বিশেষ করে টিসি মাছি ও ঘোড়ামাছি প্রচুর। এরা শুধু বিরক্তই করে না, অনেক সময় ভয়ানক রোগও ছড়িয়ে দেয়। যদি জেব্রার শরীরে মাছি সহজেই বসত, তবে তারা সংক্রমণ ও অসুখে ভুগত। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে শরীরের এই ডোরা তাদের বাঁচিয়ে রাখে।

এই গবেষণার আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির নকশা মানুষকেও নানা প্রযুক্তিতে অনুপ্রাণিত করছে। যেমন, বিজ্ঞানীরা এখন ভাবছেন—জেব্রার ডোরার মতো নকশা ব্যবহার করে হয়তো পোশাক, গৃহপালিত পশুর জন্য বিশেষ কভার বা এমনকি গৃহস্থালির সামগ্রী তৈরি করা যেতে পারে, যাতে মাছি সহজে বসতে না পারে। এতে করে কীটনাশকের ব্যবহারও কমে যাবে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন