HomeদেশOdisha: বজ্রআম ওড়িশা

Odisha: বজ্রআম ওড়িশা

মানুষ ছুটে এলেন, কিন্তু তখন সবই দেরি হয়ে গেছে।

ড়িশার আকাশটা শুক্রবার সকাল থেকেই ভার হয়ে উঠেছিল। মেঘে মেঘে দিন ঢেকেছিল, বাতাসে অদ্ভুত এক গন্ধ—যেন কিছু একটা ঘটতে চলেছে। মাঠের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা লতা দিদি আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠলেন, “আজ ঝড়টা বুঝি চুপিচুপি আসবে না, হুংকার দেবে…”

বিকেল গড়াতেই সেই কথাই সত্যি হল। হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এল। দমকা হাওয়া শুরু হল, চারদিক অন্ধকার। গ্রামের মানুষজন যার যার কাজ সেরে ঘরের দিকে ফিরতে শুরু করলেন। কিন্তু চারজন রয়ে গেলেন মাঠেই—এক পরিবার, যারা ধান কাটছিল। হঠাৎই ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেল। তারা ছুটে আশ্রয় নিলেন একটি পুরনো ছাউনির নিচে।

তারপরেই… সেই বিভীষিকা।

একটা প্রবল চিৎকার ছড়িয়ে পড়ল বাতাসে। এক মুহূর্ত, একটাই বজ্রপাত, আর সব শেষ। ছাউনির নিচে বসা তিনজন মহিলা—সঙ্গে সঙ্গে নিথর। একমাত্র পুরুষটি গুরুতর আহত। আশপাশের মানুষ ছুটে এলেন, কিন্তু তখন সবই দেরি হয়ে গেছে।

গ্রামের একটু দূরে, কাঁচা মাটির ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই বৃষ্টি দেখছিল। তাদের চোখে ছিল বিস্ময়, মুখে হাসি। তারা জানত না, এই হাসি জীবনের শেষ মুহূর্ত। এক ঝলক আলো, বিকট শব্দ, আর তারা পড়ে রইল নিঃশব্দে। বৃষ্টি তখনো পড়ছে, কিন্তু ঘরের ভেতর শোকের অশ্রুতে ভিজে যাচ্ছে মাটি।

আর এক তরুণী—২৩ বছরের ঝুমা—আম পাড়তে গিয়ে হারাল প্রাণ। ডাল থেকে পড়ল না সে, উপর থেকেই যেন ঝরে পড়ল মৃত্যু। আর একটা গ্রামে, এক বৃদ্ধা ট্রাক্টর থেকে ইট নামাচ্ছিলেন। বজ্রপাতের তীব্রতায় ছিটকে পড়ে নিথর হলেন সেও।

সেই একদিনে, ওড়িশার ছয়টি জেলায় মৃতের সংখ্যা পৌঁছয় ন’জনে। একজনের নয়, নয়টা পরিবারের আলো নিভে যায়। কেউ মা হারায়, কেউ ভাই, কেউ কন্যা।

রাতে গ্রামের আকাশ আবার পরিষ্কার হয়। চাঁদ উঠে আসে। কিন্তু যাঁরা হারিয়ে গেলেন, তাঁরা আর ফিরে আসেন না। শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে গঞ্জম থেকে কোরাপুট পর্যন্ত।

শুধু একটা প্রশ্ন রয়ে যায় বাতাসে—”ঝড় কবে থামবে?”

আর প্রশাসন, তারা মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেয় কিছু টাকা। অথচ যাদের হারানো গেল, তাদের মূল্য কী কোনও টাকা মেটাতে পারে?

সেই শুক্রবারটা ওড়িশার মানুষের মনে থেকে যাবে… আকাশের চিৎকার, আর একেকটা হৃদয়ের নিঃশব্দ কান্না হয়ে।

বিঃদ্রঃ – বজ্রপাতের ঘটনাকে গল্পের আকারে লিখিত।

|| সমাপ্ত ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন