HomeদেশAir India Plane crash: কেউ আছেন?

Air India Plane crash: কেউ আছেন?

আগুনে পুড়ে ছেলেকে জড়িয়ে রাখা এক মায়ের গল্প

১২ জুন ২০২৫ একেবারে সাধারণ দিন, প্রতিদিনের মতোই। কিন্তু দুপুর গড়াতে গড়াতেই হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যুর গন্ধ। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রামে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি বিমান—আর সেই আগুনে পুড়ে যায় কত স্বপ্ন, কত ভবিষ্যৎ, কত জীবনের গল্প।

এই দুর্ঘটনার মধ্যেই ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা শুধু চোখে জল আনে না, বরং বুকের গভীরে এক অসহ্য যন্ত্রণা ফেলে যায়।

দূর্ঘটনার কিছু আগেই মায়ের একমাত্র ছেলে আকাশ এসেছিল মাকে দুপুরের খাবার দিতে। কারন তার মা ওই এলাকায় একটা ছোট্ট চায়ের দোকান চালান। সন্তান দের কথা ভেবে দিন রাত পরিশ্রম করেন এক মা।

কোনো কাজে মা একটু দূরে যান। ১৫-র আকাশ দোকানেই বসে থাকে মায়ের অপেক্ষায়। তখনই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। হঠাৎই বিকট শব্দে পাশেই হোস্টেল বিল্ডিং-এ আছড়ে পড়ে বিমানটি। আগুন ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে। চারপাশে ধোঁয়া আর আর্তনাদ।

দূর থেকে মায়ের চোখে পড়ে—আকাশ আগুনের ধোঁয়ার মধ্যে হাত নেড়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। গলা ফাটিয়ে মা চিৎকার করেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাও! কেউ আমার ছেলেকে বাঁচাও!” কেউ যায় না। আতঙ্কিত মানুষ একে একে দৌড়ে প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত। একজন মা তখন কিভাবে কি করবেন ভেবে আকুল।

এক বুক সাহস আর এক সাগর ভালোবাসা নিয়ে তিনি নিজেই ছুটে যান আগুনের মধ্যে। নিজের শরীরের কথা ভুলে গিয়ে তিনি পৌঁছন ছেলের কাছে। কিন্তু শরীরটা  ততক্ষণে দগ্ধ। কিছু বলার ক্ষমতা ছিল না হয়তো, তবুও মায়ের কোলে মাথা রেখে সে বুঝিয়ে দেয়—এটাই শেষ আশ্রয়।

মা তখনও হাল ছাড়েননি। জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁর নিজের শরীরের পঞ্চাশ শতাংশ পুড়ে যায়, কিন্তু ছেলের মুখে যেন একটু শান্তি। মা ছেলেকে আগলে রেখেছেন, শেষ মুহূর্তেও।

পরে উদ্ধারকারীরা যখন তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, আকাশ তখন নিস্তব্ধ। ডাক্তাররা জানিয়ে দেন—ছেলেটি আর নেই।

হাসপাতালে আকাশের মৃত্যুর খবর জানানো হয় পরিবারকে। কিন্তু তাঁর মা—যিনি এখনও হাসপাতালে, যিনি নিজের শরীরের অর্ধেক হারিয়েছেন, যাঁর চোখে একটাই প্রশ্ন—“আমার ছেলে কেমন আছে?” তাঁকে কেউ বলেনি সত্যিটা। হয়তো সাহস হয়নি, হয়তো কেউ পারেনি এমন এক মাকে বলতে—তোমার বুকের ধন আর নেই।

এই কাহিনী কোনও কাল্পনিক সিনেমা নয়। এ বাস্তব। এ মায়ের ভালোবাসার চূড়ান্ত রূপ—যেখানে জীবন বাজি রেখে সন্তানকে বাঁচাতে আগুনে ঝাঁপ দেন এক মা।

আজ হয়তো আকাশ নেই। কিন্তু তার শেষ মুহূর্তে মা ছিল পাশে। আর সেই মা, এখনও দগ্ধ শরীর নিয়ে, ছেলের মুখটাই খুঁজে ফেরেন চোখে। হয়তো আজও জেগে উঠেই বলেন—“আমার ছেলে কেমন আছে?”

এই কাহিনী আমাদের চোখে শুধু জল আনে না, হৃদয়কে কাঁপিয়ে দিয়ে শেখায়—মায়ের ভালোবাসার কোনো পরিমাপ হয় না। মৃত্যু এসে যখন শেষ টান দেয়, তখনও এক মা আগুন পেরিয়ে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

এই সাহস, এই ভালোবাসা—অমর।

বিঃদ্রঃ – সাম্প্রতিক এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দূর্ঘটনার বেদনা দায়ক কাহিনী অবলম্বনে লিখিত।

|| সমাপ্ত ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন