HomeদেশBihar: হলুদ আলোতেই ভবিষ্যৎ

Bihar: হলুদ আলোতেই ভবিষ্যৎ

আমার নিজের জন্য কিছু চাই না, শুধু মেয়েটাকে বাঁচাও।

রাতে যখন গোটা গ্রাম ঘুমিয়ে পড়ে, তখন ছোটকি ভেদিয়া গ্রামের এক কোণায় রাস্তার একমাত্র ল্যাম্পপোস্টের নিচে জ্বলে ওঠে এক আশ্চর্য আলো। সেটা শুধু বিদ্যুতের আলো নয়, সেটা এক ছোট্ট মেয়ের জেদ, স্বপ্ন আর লড়াইয়ের আলো—নয় বছরের স্নেহা কুমারির আলো।

স্নেহা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার ঘরে নেই বিদ্যুৎ, নেই টেবিল, নেই বই রাখার তাক, এমনকি নেই ন্যূনতম নিরাপত্তা। কিন্তু তাতে তার স্বপ্ন থেমে নেই। তার চোখে ভেসে ওঠে সাদা অ্যাপ্রন পরা এক ডাক্তার—যে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, বাবার মতো অসুস্থ মানুষদের সারিয়ে তোলে।

তার বাবা মহেশ মাঝি এক সময় দিনমজুর ছিলেন। এখন কিডনির অসুখে ভুগছেন, বিছানাতেই শয্যাশায়ী। সংসারের যা সামান্য সঞ্চয় ছিল, সবই চলে গেছে চিকিৎসার খরচে। এখন খাবার জোটানোই কঠিন। তার ওপর নেই আধার, নেই আয়ুষ্মান কার্ড, নেই সরকারি সাহায্য।

তবুও সন্ধে নামলেই স্নেহা তার খাতা-কলম নিয়ে হেঁটে যায় রাস্তার কোণে, যেখানে সেই একমাত্র ল্যাম্পপোস্ট জ্বলছে। সেখানে বসে সে পড়াশোনা করে মন দিয়ে। তার ছোট্ট আঙুলে ধরা পেনসিল, তার খাতার পাতায় লেখা অঙ্ক বা বাক্যগুলো যেন বলে—”আমি পারব!”

তার মা বলেন, “ওর মতো জেদি মেয়ে আমি দেখিনি। দিনভর ক্ষেতে খেটে ক্লান্ত হয়ে ফিরেও দেখে, মেয়েটা পড়ায় ডুবে আছে।”

একদিন এক পথচলতি মানুষ সেই দৃশ্য দেখে ভিডিও তুলে দেন। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্নেহার কাহিনি ভাইরাল হয়। হাজারো মানুষ তার প্রশংসা করে, কেউ কেউ সাহায্যের হাত বাড়াতেও চান।

কিন্তু এখনও সেই আলো নেভেনি। স্নেহা এখনও ল্যাম্পপোস্টের নীচে পড়ে। তার বাবা শুধু কাঁদেন আর বলেন, “আমার নিজের জন্য কিছু চাই না, শুধু মেয়েটাকে বাঁচাও… ও যেন নিজের স্বপ্নটা ছুঁতে পারে।”

এটা কেবল এক গরিব মেয়ের গল্প নয়, এটা এক অসামান্য মনোবলের গল্প। যে বলে দেয়—আলো না থাকলেও, আলো জ্বালিয়ে দেওয়া যায়। আর সেই আলোই একদিন সমাজকে পথ দেখাতে পারে।

স্নেহার গল্পটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বড় হতে স্কুল না, ইচ্ছাশক্তি লাগে। আর একটা ছোট্ট মেয়ের স্বপ্নই বদলে দিতে পারে গোটা দুনিয়া।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন