HomeInspirational StoryInspirational Story: মদের মাতৃত্বে MBBS

Inspirational Story: মদের মাতৃত্বে MBBS

মদপানকারীরা বিরক্ত হয়ে আমার মুখে মদের কয়েক ফোঁটা দিয়ে দিত।

ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের একটি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি বহুজনের মুখে শোনা যায়—“আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম ব্যর্থতা নামক রোগের শ্রেষ্ঠ ওষুধ।” এই কথা যেন হুবহু প্রযোজ্য মহারাষ্ট্রের আইএএস অফিসার ড. রাজেন্দ্র ভরতের জীবনে। দারিদ্র্য, কষ্ট আর সামাজিক অনগ্রসরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি আজ কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার নাম।

মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলার সাকরি তালুকার সামোদে গ্রামে রাজেন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই বাবাকে হারান তিনি। পরিবারের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে বাবার কোনও ছবিও残ত ছিল না। সংসার চালাতে তাঁর মা দেশি মদ বিক্রি করতেন।

একটি সাক্ষাৎকারে রাজেন্দ্র বলেন, “আমি তিন বছর বয়সে ক্ষুধায় কাঁদতাম। তখন মদপানকারীরা বিরক্ত হয়ে আমার মুখে মদের কয়েক ফোঁটা দিয়ে দিত। দুধের বদলে ঠাকুমা মদ খাওয়াতেন যাতে ক্ষুধা কমে এবং আমি চুপ হয়ে যাই। এইভাবেই আমি অল্প বয়সেই মদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি।”

ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-কাশিতেও ওষুধের জায়গায় তাঁকে মদ খাওয়ানো হতো। তবু ছোট্ট রাজেন্দ্র হার মানেননি। বাড়ির বাইরে একটি মাটির উঁচু জায়গায় বসে পড়াশোনা করতেন। যারা মদ খেতে আসত, কেউ কেউ তাঁর হাতে কিছু টাকা দিত। সেই টাকায় কিনতেন বই।

সেই ছোট্ট ছেলেটিই একদিন দশম শ্রেণিতে ৯৫ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯০ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করেন। ২০০৬ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন মুম্বইয়ের KEM হসপিটাল ও সেঠ জিএস মেডিকেল কলেজে।

UPSC-তে প্রথমবারেই বাজিমাত

MBBS-এর শেষ বর্ষে পড়াশোনার ফাঁকে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন রাজেন্দ্র। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, প্রথম চেষ্টাতেই তিনি IAS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই খবর প্রথমে তাঁর মা জানতেন না। পরে, যখন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্তারা ফোন করে শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন, তখন তিনি আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আজ রাজেন্দ্র শুধু একজন সফল প্রশাসক নন, তিনি প্রমাণ করেছেন—সামাজিক ও আর্থিক বাধা পেরিয়ে, প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও নিজের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব। তাঁর জীবন গল্প আজ দেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর চোখে আশার আলো।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন