HomeOtol KinareAmazing Facts: হালকা ও ভাসমান মনে হলেও বাস্তবে মেঘের ওজন অনেক বেশি

Amazing Facts: হালকা ও ভাসমান মনে হলেও বাস্তবে মেঘের ওজন অনেক বেশি

এত ভারী হওয়া সত্ত্বেও মেঘ আকাশে ভেসে থাকে কীভাবে?

একটি মেঘের ওজন শুনলে অনেকেই অবাক হয়ে যান। সাধারণভাবে একটি মাঝারি আকারের মেঘের ভর প্রায় দশ লক্ষ টন বা এক মিলিয়ন টনের কাছাকাছি হতে পারে। বাইরে থেকে তুলোর মতো হালকা ও ভাসমান মনে হলেও বাস্তবে মেঘের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণা ছড়িয়ে থাকে, যা মিলিতভাবে এই বিশাল ওজন সৃষ্টি করে।

সাধারণত একটি মেঘের আয়তন প্রায় ১ ঘনকিলোমিটার (১ কিমি³) হতে পারে। যদি আমরা এই আয়তনকে ঘনমিটারে রূপান্তর করি, তবে তা হবে ১,০০০,০০০,০০০ (এক বিলিয়ন) ঘনমিটার। এখন, মেঘের গড় ঘনত্ব ধরা হয় প্রায় ১.০০৩ কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার। এই ঘনত্বের মান ব্যবহার করে হিসাব করলে দেখা যায়, এত বড় আয়তনের মেঘে মোট ভর দাঁড়ায় প্রায় এক বিলিয়ন কিলোগ্রাম, যা টনে রূপান্তর করলে প্রায় দশ লক্ষ টনের সমান।

তবে প্রশ্ন উঠতে পারে—এত ভারী হওয়া সত্ত্বেও মেঘ আকাশে ভেসে থাকে কীভাবে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ঘনত্বের পার্থক্যে। মেঘের ঘনত্ব আশপাশের বাতাসের তুলনায় সামান্য কম, প্রায় ০.৪ শতাংশ কম ঘন। এই অল্প পার্থক্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো বস্তুর ঘনত্ব যদি তার চারপাশের মাধ্যমের তুলনায় কম হয়, তাহলে তা ভাসতে সক্ষম হয়। মেঘের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

মেঘ আসলে অসংখ্য সূক্ষ্ম জলকণা বা বরফকণার সমষ্টি, যেগুলো বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা বা অন্যান্য ক্ষুদ্র কণার ওপর ঘনীভূত হয়ে তৈরি হয়। প্রতিটি জলকণা অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও হালকা হওয়ায় তারা সহজেই বাতাসে স্থির থাকতে পারে। পাশাপাশি, উষ্ণ বায়ু উপরে ওঠে এবং ঠান্ডা বায়ু নিচে নামে—এই বায়ুপ্রবাহও মেঘকে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।

সুতরাং, বাইরে থেকে নরম ও হালকা দেখালেও একটি মেঘের ভর প্রকৃতপক্ষে বিশাল। এর আয়তন, ঘনত্ব এবং আশপাশের বায়ুর তুলনায় সামান্য কম ঘন হওয়ার বৈশিষ্ট্যই মেঘকে আকাশে ভাসমান রাখে। বিজ্ঞানের এই ব্যাখ্যা আমাদের দেখায় যে প্রকৃতির অনেক সাধারণ দৃশ্যের পেছনেও জটিল ও চমকপ্রদ পদার্থবৈজ্ঞানিক নীতি কাজ করে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন