দিগন্ত হালদার—একটা নাম, একটা স্বপ্ন, একটা হেরে যাওয়ার গল্প। কলকাতার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পাশ করার পর নিজের মতো করে একটা চাকরি খোঁজার যুদ্ধ শুরু করেছিল ছেলেটি। কিন্তু রোজকার সেই ইন্টারভিউ, CV পাঠানো, আর তারপরে ‘আপনার প্রোফাইলটি আমাদের বর্তমান প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই নয়’ এই একঘেয়ে ইমেলগুলো যেন তাকে তিলে তিলে গিলে খাচ্ছিল।
তবুও আশা ছিল, পাশে ছিল অন্বেষা। কলেজ জীবনের প্রেম। ক্যান্টিনে এক কাপ চা ভাগ করে খাওয়া, কলেজের বৃষ্টি ভেজা ছাতার নিচে দু’জনে হাঁটা, কবিতা পড়া—সব মিলিয়ে দিগন্তের পৃথিবীটাই ছিল অন্বেষা।
কিন্তু বাস্তব বড়ই নির্মম। ছেলেটি যখন হাতে মুঠো করে স্বপ্নগুলো ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল, তখন অন্বেষা নিজের জন্য আরামদায়ক ভবিষ্যতের খোঁজে মন দিচ্ছিল অন্যদিকে। একদিন হঠাৎ বলে দিল—”দিগন্ত, আমি আর পারছি না। আমার পরিবার চাইছে আমি স্থির হই, বিয়ে করি। তুমি যদি চাকরি না পাও, তাহলে আমি কীভাবে এই সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব?”
দিগন্ত স্তব্ধ। কিছু বলতে পারেনি। শুধু অন্বেষার চলে যাওয়া দেখে ছিল। যেন একটা পৃথিবী তার সামনে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। যে মানুষটা বলত, ‘তুই চাকরি না পেলেও চলবে, তুই যা, আমি তোকে ভালোবাসি’—সেই মানুষটিই আজ বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে বলছে, ভালোবাসা আর যথেষ্ট নয়।
তারপরের দিনগুলো যেন কুয়াশায় মোড়া। ঘরে বসে একঘেয়েমি কাটাতে সে কবিতা লিখত। তার ভাষায়, “আমি হেরে গিয়েছি বলে নয়, আমি লড়াই করতে করতে ক্লান্ত।” কিন্তু এই ক্লান্তি তাকে পুরো ভেঙে ফেলেনি।
একদিন সকালবেলা মা বললেন, “তুই চাইলে গ্রামে গিয়ে একটু সময় কাটিয়ে আয়, দিগু। তোর ঠাকুরদার বাড়ি তো খালি পড়ে আছে।”
দিগন্ত ভাবল, ঠিকই তো। এখানে থাকা মানে শুধু স্মৃতি চিবিয়ে ফেলা। গ্রামে গেলে অন্তত নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবে।
… এর বদলে যায় সবকিছু। পরিবর্তনের সেই কাহিনী পড়ুন পর্ব – ১ এ।
|| সমাপ্ত ||

