শ্রীনীকা পাত্র, এক স্বপ্নবিলাসী কলেজ ছাত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং-এর এক সাধারণ পরিবারে জন্ম। পড়াশোনায় ভালো, বন্ধুদের কাছে হাসিখুশি, প্রাণবন্ত। ফিজিওথেরাপি নিয়ে পড়ছিল মহিষাদলের ক্ষুদিরাম বসু কলেজ অফ ফার্মেসিতে। ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল, মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর।
কিন্তু একদিন, সেই স্বপ্নগুলো আর ছিল না। ঘরটা নিঃশব্দ, দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে দেখা গেল, শ্রীনীকা আর নেই। গলায় কাপড় জড়ানো, সিলিং ফ্যানে ঝুলছে সে। টেবিলের ওপর একটা সুইসাইড নোট।
কি হয়েছিল?
তার বন্ধু আর সহপাঠীরা জানায়, শ্রীনীকা মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। দিনে-রাতে শুধু গেম খেলত। ধীরে ধীরে সেই গেমই হয়ে ওঠে নেশা। হাজার হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে গেম অ্যাপগুলো তাকে টেনে নিয়ে যায় আরও গভীরে। সে ধার নিতে শুরু করে। আর সেই ঋণ একসময় এতটাই বেড়ে যায়, যা তার পক্ষে শোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। মানসিক চাপ, অবসাদ আর একাকীত্বের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে সে।
একদিন, সেই চাপ আর সহ্য করতে না পেরে সে বেছে নেয় চরম সিদ্ধান্ত।
এই গল্পটা কোনো সিনেমা নয়, এই গল্পটা বাস্তব। এমন ঘটনা শুধু শ্রীনীকা-এর সঙ্গে নয়, অনেক তরুণের জীবনেই আজ ভয়ানকভাবে ঢুকে পড়ছে এই ধরনের মোবাইল অ্যাপ, গেম, আর ‘সহজে উপার্জনের’ মিথ্যে স্বপ্ন।
আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করব, কিন্তু তার দাস হব না।
এই গল্প থেকে আমাদের সকলের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা:
- প্রযুক্তিকে কাজে লাগাও, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিও না।
- যেকোনো লোভনীয় অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করার আগে যাচাই করো।
- বন্ধু, সহপাঠী বা পরিবারের কেউ যদি বিষণ্ণ দেখায়, পাশে দাঁড়াও, কথা বলো।
- অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারে সচেতনতা ও সীমা নির্ধারণ করা।
- স্কুল, কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল ডিটক্স নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি দরকার।
শ্রীনীকা ফিরে আসবে না। কিন্তু তার মতো আর কাউকে যাতে না হারাতে হয়, তার জন্য আমাদের এখনই সচেতন হওয়া দরকার।
চলো, শ্রীনীকা-এর শেষ নিঃশ্বাসকে এক শিক্ষা বানিয়ে তুলি—ভবিষ্যতের আরও অনেক তরুণ প্রাণকে বাঁচাতে।
বিঃদ্রঃ – পূর্ব মেদিনীপুরের ঘটনা অবলম্বনে লিখিত এই গল্প।
|| সমাপ্ত ||

