Homeদক্ষিণবঙ্গBurdwan: তেজগঞ্জের জেদী মেয়ে

Burdwan: তেজগঞ্জের জেদী মেয়ে

বৈশাখীকে তৎক্ষণাৎ ভর্তি করানো হয় বর্ধমান মেডিক্যালে।

তেজগঞ্জের এক সরু গলিতে, রোদ উঠলে যেখানকার কাঁচা রাস্তা ঝিলমিল করে, সেখানেই থাকে বৈশাখী যাদব। ছিমছাম, মাটির ঘরে মাটির গন্ধ মেখে বেড়ে ওঠা এই মেয়েটি আজ নিজের স্কুল, নিজের পরিবার, এমনকি গোটা শহরের গর্ব। অথচ, কিছুদিন আগেও মেয়ের পরীক্ষায় বসতে পারা—এটুকু কল্পনা করাটাও ছিল যাদব পরিবারের কাছে এক বিলাসিতা।

২০২৩ সাল। বৈশাখীর জীবনে হঠাৎ এক ঝড়। মস্তিষ্কে ধরা পড়ে এক বিরল ও জটিল রোগ। কিছুদিন পর, ২০২৪ সালের এক পরীক্ষার দিন ক্লাসরুমেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। স্কুলে ততক্ষণে শোকের ছায়া, শিক্ষকদের চোখে উৎকণ্ঠা। বৈশাখীকে তৎক্ষণাৎ ভর্তি করানো হয় বর্ধমান মেডিক্যালে। তবে সাড়া মিলছিল না তেমন।

তারপর শুরু হয় জীবনযুদ্ধ—ওষুধ, চিকিৎসা, কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু অবধি ছুটে চলা এক গরিব ঘরের অসহায় পরিবারের। কিন্তু কোথাও থামেনি এক মেয়ের স্বপ্ন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ চক্রবর্তী এবং সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা বৈশাখীর পাশে দাঁড়ান। স্কুলের ‘পুওর ফান্ড’ থেকে পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় তার পরিবারের হাতে। টিকিট কাটা হয় বেঙ্গালুরুর জন্য। রোগের সঙ্গে লড়াই করতে করতে আবার হাতে তুলে নেয় বইখাতা।

বৈশাখী জানে, তার লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়। তার মতো হাজার হাজার মেয়ের জন্য, যাদের স্বপ্নের পথ বন্ধ হয়ে যায় সামান্য অসুস্থতা, দারিদ্র্য বা সমাজের অনুশাসনে।

মাধ্যমিকে সে পায় ৩০৬। অনেকের চোখে এই নম্বর বড় কিছু নয়, কিন্তু যাঁরা বৈশাখীর লড়াই দেখেছেন, তাঁরা জানেন—এটা শুধুই নম্বর নয়, এটা এক মেয়ের অদম্য জেদের ছাপ।

বৈশাখী এখন উচ্চমাধ্যমিকে কলা বিভাগে পড়ার স্বপ্ন দেখে। মা টুম্পা যাদব বলেন, “রোগের কথা ভুলে যেন মেয়ে পড়াশোনা করে, মানুষের মতো মানুষ হয়, এটাই চাওয়া।”

স্কুল বলছে, বৈশাখীর লড়াই শুধু পাস করার গল্প নয়—এটা নিজের শরীর, নিয়তি, অভাব আর যন্ত্রণাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলার এক অজেয় প্রেরণার নাম।

শুধু একটিবার চোখে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, বৈশাখী থামার জন্য নয়—সে আলো হয়ে উঠবে, অনেক বৈশাখীর পথ দেখাবে।

শেষ নয়, শুরু এটিই।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন