শুভম একটি ছোট শহরের ছেলে। সদ্য ভর্তি হয়েছে কলকাতার এক নামকরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। প্রথম দিনেই বুক ধুকধুক করছে। নতুন শহর, নতুন মুখ, নতুন ভবিষ্যৎ। তবে ভয়ও কাজ করছে — র্যাগিং শব্দটা তো বহুবার শুনেছে, সিনেমায় দেখেছে, বড় ভাইদের মুখে শুনেছে।
হোস্টেলের প্রথম দিন। ঘরভর্তি অচেনা মুখ। রাত আটটা বাজতেই চারজন সিনিয়র দরজায় কড়া নাড়ল।
— “নাম কী রে তোর?”
— “শুভম দে, স্যার।”
— “স্যার বলবি না। আমাদের নাম ধরে ডাকবি। এখন দাঁড়া, এক পা তুলে ৫ মিনিট দাঁড়া। তারপর আমাদের নামের অক্ষর দিয়ে কবিতা লিখবি।”
শুভম ভয় পেয়েও কিছু বলে না। ছেলেগুলো খারাপ ব্যবহার করছে না, কিন্তু অদ্ভুত এক মানসিক চাপ দিচ্ছে। ওর কণ্ঠ শুকিয়ে এসেছে। চোখে জল চলে আসে।
ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে একজন বলে উঠল,
— “এই সব বন্ধ করো। এখনই।”
একজন সিনিয়র, নাম আদিত্য সেন, ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। চোখে চশমা, গম্ভীর মুখ।
— “তোমরা জানো র্যাগিং আইনত অপরাধ, তাই না? তোমাদের এমন আচরণ কারও মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা ক্ষতি করে জানো?”
ছেলেগুলো মাথা নিচু করে চলে গেল। শুভম অবাক হয়ে চেয়ে থাকে আদিত্যর দিকে।
আদিত্য এগিয়ে এসে একটা চকলেট বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
— “নতুন জায়গা কঠিন হতে পারে। তবে ভয় পাস না। আমরা কেউ তোর শত্রু নই। কোনও অসুবিধা হলে আমি আছি।”
শুভম একটু হেসে ফেলে। এরপর থেকে হোস্টেল জীবনের প্রতিটি দিন তার কাছে ছিল আনন্দে ভরা, আতঙ্কমুক্ত।
সচেতনতার বার্তা:
এই গল্পটি শুধুই শুভমের নয়, অনেক ছাত্রের বাস্তব চিত্র। র্যাগিং কোনও বন্ধুত্বের সূচনা নয়, এটি মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। বন্ধুত্ব জোর করে তৈরি হয় না, তা সময় ও সম্মান দিয়ে গড়ে তুলতে হয়।
প্রতিটি কলেজে দরকার এমন ‘আদিত্য’-র মতো ছাত্ররা, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। আর দরকার সচেতনতা, সহানুভূতি, এবং সাহস — “না” বলতে শেখা।
র্যাগিং নয়, বন্ধুত্ব হোক কলেজ জীবনের শুরু।
বিঃ দ্রঃ – এই গল্পে র্যাগিং এর একটি কাহিনী কে তুলে ধরে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
|| সমাপ্ত ||

