Homeদক্ষিণবঙ্গChandrakona: মদ্যপায়ীদের জলবিছুটি

Chandrakona: মদ্যপায়ীদের জলবিছুটি

শাস্তির প্রথম কিস্তি বাস্তবায়িত হল।

মাঠে পা রাখলে জুতো ছিঁড়ে যায়, আর ভাগ্য খারাপ হলে কাচ ঢুকে পায়ের তালু ছিঁড়ে রক্তারক্তি অবস্থা।

এই কাণ্ড কারখানার মূল চরিত্র? মদ্যপ যুবকদের ‘বোতল বাহিনী’!

দিন হলে কাজ, রাত হলে পার্টি—এটাই ছিল ওদের মন্ত্র। দেশি হোক বা বিদেশি, বোতলের রঙ দেখে বোঝা যেত, এদের স্বাদে কোনও গরিমা নেই। কে বলবে এটা এক শান্ত গ্রাম? ঝকঝকে রাস্তার ধারে এখন শুধু গ্লাস, প্লাস্টিক, আর কটূ মন্তব্যের সুরেলা মিশেল। এমনকি মাঠে কাজ করতে গেলে গ্রামের মানুষকে শুনতে হয়—”ও দিদি, একটানা তাকিয়ে রইলেন কেন? প্রেমে পড়লেন নাকি?”

এতদিন এই কথায় হাসতেন অনেকে, কেউবা রেগে উল্টে বাড়ি ফিরে যেতেন। কিন্তু একদিন সেই হাসি থেমে গেল।

এক সকালে দেখা গেল, গোটা গ্রামে হঠাৎ এক ঝাঁক পোস্টার! লাল কালিতে মোটা অক্ষরে লেখা—
“বোতল বাহিনীর খবরদারি আর চলবে না! এবার থেকে হাতে পায়ে বেঁধে জলবিচুটি দেওয়া হবে। জরিমানা ২০,০০০ টাকা। ধরিয়ে দিলে পুরষ্কার ৫,০০০ টাকা।”

সাথে পোস্টারের নিচে অজানা অথচ ভীতিকর স্বাক্ষর—
“গ্রামের জনতা”।

পুরো গ্রামে হৈচৈ। কেউ বলছে, “এই তো ঠিক করেছে!” কেউ আবার বলছে, “আরে, জলবিচুটি দিলে তো ত্বক লাল হয়ে ফুলে যাবে!”
বোতল বাহিনীর ছেলেরা প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল ব্যাপারটা। বলেছিল, “ওসব ভয়ের পোস্টার। কে আমাদের ছুঁতে পারে?”

কিন্তু দু’দিন না যেতেই রটে গেল—সোমেন নামে এক মদ্যপ রাতে মদের আসরে ধরা পড়ে। পোস্টারে দেওয়া শাস্তির প্রথম কিস্তি বাস্তবায়িত হল। সবার সামনেই মাঠে তাকে এক রকম বাঁধা হল। যদিও জলবিচুটি পর্যন্ত গড়ায়নি, গ্রামের বয়স্করা হস্তক্ষেপ করেন, কিন্তু অপমানটা যে হজমযোগ্য নয়, তা বোঝা গেল সোমেনের চুপচাপ বাড়ি ফেরা দেখে।

তারপর আর কারও সাহস হয়নি মাঠে বোতল ফেলার।

পুলিশও ততক্ষণে সক্রিয়। দিনে-রাতে চলছে টহল, বাইরের ছেলেরা ধরা পড়লেই জিজ্ঞাসাবাদ। গ্রামের কিছু যুবক, যারা আগে সন্ধের পর হেডফোনে গুম হয়ে থাকত, তারা এখন পোস্টার লাগাচ্ছে, পাড়ায় পাড়ায় নজরদারি চালাচ্ছে।

হাসির বিষয়টা কী, জানেন? এখন কেউ যদি খেলার মাঠে পড়ে থাকা বোতল দেখায়, গ্রামের লোক বলে—
“ওটা তো ফসিল! এককালে বোতল বাহিনী ছিল এখানে!”

আর সমাজ সচেতনতাটাই বা কী?
এই হাস্যরসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গাঢ় সত্য: নিজের গ্রাম, নিজের পথঘাট, নিজের মাঠ—এগুলো রক্ষা করতে হলে উদ্যোগ নিতে হয় নিজেরাই। প্রশাসন পাশে থাকুক, কিন্তু প্রথম পদক্ষেপটা আমরাই তো নিতে পারি।

গোপালপুরের কাঁটাবন মাঠে এখন আবার ফিরে এসেছে ছেলেমেয়েদের হুল্লোড়। আর বোতল বাহিনী? তারা এখন বোতলের গায়ে লেখা তারিখ দেখেই ভয় পায়—“একবার যদি গ্রামের লোক ধরে ফেলে, তাহলে গরম হবে জলবিচুটির থেকেও বেশি!”

সত্যিই, সমাজ বদলাতে পোস্টার আর পুরস্কারের যুগেও গ্রামবাসীর সাহসই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

বিঃদ্রঃ – গল্পটি আসল কাহিনী থেকে কিছুটা আলাদা ভাবে লিখিত।

|| সমাপ্ত ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন