পাঁচপাড়া গ্রামের মাঝখানে একটা ছোট্ট স্কুল। নাম – পদ্মলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুনতে বেশ ফুলফুলে, কিন্তু স্কুলটার ছাদ দেখে কারও মন ভরে না। বর্ষা পড়তেই, সেই ফুল ঝরে পড়ে এক্কেবারে বেঞ্চের ওপর!
স্কুলে মোটে ৬৮ জন ছাত্রছাত্রী। চারটি শ্রেণির জন্য আছে চারখানা ঘর। তার মধ্যে দুটো ঘরের ছাদ টিনের—এত পুরোনো যে, এখন সেটা টিন না ঝাঁঝরা পিঁজরা বোঝা কঠিন। বর্ষা এলেই শুরু হয় বৃষ্টির কনসার্ট। টপটপটপ… ঝমঝম… ছাতা না থাকলে কপাল পুড়বেই।
একদিন বৃষ্টির মধ্যে হেডস্যার বিজয়বাবু এসে ক্লাস নিতে গিয়ে দেখেন, বাচ্চারা ছাতা মাথায় বসে! কেউ কার্টুন ছাতা, কেউ বাবার অফিসের ছাতা নিয়ে এসেছে। আর নিজে? তিনিও একটী বড়সড় সবুজ ছাতা খুলে, সবার মাঝে দাঁড়িয়ে বলছেন, “2 plus 2 equals 4… আর চার কোণায় চারটি ফুটো!”
এমন ছবি ক্যামেরায় উঠতেই ভাইরাল হয়ে যায়! কেউ লিখছে, “ছাতার নিচে গণিত”, কেউ বলছে, “এই ছেলেমেয়েরা তো পিঁপড়ের মতো, বৃষ্টি এলেও থামে না।”
এরপরই হইচই! রবিন বাবু, এক বিরোধী দলের নেতা, এক্স-এ ছবি পোস্ট করে লেখেন, “এই হল শিক্ষার হাল! কেন্দ্র টাকা দেয়, আর এরা লুঠে নেয়!”
দিদিপক্ষের দেবীদি সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা লেখেন, “যারা নিজের রাজ্যে স্কুলে গরু চরায়, তারা বাংলার স্কুল নিয়ে বলছে! ছিঃ!”
স্কুলের হেডস্যার বিজয়বাবু শান্ত গলায় বলেন, “২০২৩ সালে যোগ দিয়েছি। এসেছি স্কুল গড়তে, ভাসাতে না। ত্রিপল চেয়েছিলাম, গতকাল দুটো পেয়েছি। কিন্তু, এই ঘরে তো ত্রিপলও চশমা পরে ঢোকে!”
রাধাদেবী, গ্রামের মাসিমা, বলেন, “আমার নাতনি ক্লাসে যায় বৃষ্টির মধ্যে! ফিরলে বলে, ‘আজ টেবিলের নিচে পড়েছিলাম!’ পড়াশোনা নাকি লুকোচুরি খেলা!”
অবশেষে বিডিও ম্যাডাম সুবর্ণা সেন জানালেন, “১১ লক্ষ টাকার এস্টিমেট পাঠানো হয়েছে। কাজ শুরু হবে শিগগিরই।”
শিক্ষক, পড়ুয়া আর গ্রামের লোকেরা এখন দিন গুনছে – কবে নতুন ছাদ আসবে? আর বৃষ্টি নামলে ছাতা নয়, ছাদে মাথা ঠেকিয়ে পড়া যাবে!
এই হল পাঁচপাড়ার ছাতার স্কুলের গল্প। যেখানে পড়াশোনা থেমে যায় না, ছাতার নিচে হোক বা কাঁদার পাশে। আর ছোট ছোট পিঁপড়ে সৈনিকেরা শিখে নিচ্ছে—ঝড়, জল, রাজনীতি যাই আসুক, শিখতেই হবে!
বিঃদ্রঃ – গল্পের কাহিনী বা চরিত্র গুলির সাথে বাস্তবের মিল খুজবেন না।
|| সমাপ্ত ||

