Homeদক্ষিণবঙ্গLove Affairs: পরকীয়ার শেষ ভাষা

Love Affairs: পরকীয়ার শেষ ভাষা

মৃত্যু সমাজকে একটা আয়না ধরিয়ে দিয়ে গেছে।

পথের ধারে দাঁড়ানো একটি পুরোনো বাড়ি। সেই বাড়ির এক কোণে বাস করতেন রমেন সরকার। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। কাজের তাগিদে বছরের বেশিরভাগ সময়ই কাটতো গুজরাটে। স্ত্রী মঞ্জু ও দুই সন্তানকে রেখে রমেন পরিশ্রম করতেন—একটাই উদ্দেশ্যে, ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ গড়া।

কিন্তু এই গল্পটা শুধু ঘাম-ঝরানো পরিশ্রমের নয়। একদিন হঠাৎ গ্রামে ফিরলেন রমেন—কারও কিছু না জানিয়ে। তাঁর চোখে ঘুম নেই, মুখে চাপা কষ্ট। কেউ বুঝতেও পারল না, এই নিঃশব্দ ফিরে আসার পেছনে কী কারণ।

পরের দিন সকালে হঠাৎ শোনা গেল, রমেনের নিথর দেহ পাওয়া গেছে বাড়ির ঘরে। পাশে পড়ে ছিল একটি অর্ধেক খালি বিষের শিশি আর এক বোতল মদ। সঙ্গে একটি মোবাইল, যেখানে রেকর্ড করা ছিল তাঁর শেষ বার্তা।

ভিডিয়োতে রমেন বলছেন, “আমি শুধু সংসারটা ভালো রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার অনুপস্থিতিতে আমার স্ত্রী আর একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে—এই খবর শুনে আমি ভেঙে পড়েছি। আমি কাউকে শাস্তি দিতে চাই না। শুধু চেয়েছিলাম মঞ্জু সুখে থাকুক। তাই নিজেই সরে যাচ্ছি।”

এই ভিডিও দেখে গ্রাম কেঁপে ওঠে। কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। দুই শিশু বোবা চোখে তাকিয়ে থাকে বাবার শেষ স্মৃতির দিকে। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি গল্প। মঞ্জু পরে জানায়, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং তার দাবি, রমেনেরই এক সহকর্মী নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। যেটা নিয়ে সংসারে ঝামেলা হত বহুদিন ধরেই।

পুলিশ ভিডিও এবং মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখে। ময়না-তদন্তে সত্য সামনে আসবে, কিন্তু ততদিনে এই মৃত্যু সমাজকে একটা আয়না ধরিয়ে দিয়ে গেছে।

✍️ শেষে কিছু কথা:

এই গল্প শুধু রমেন বা মঞ্জুর নয়। এটি হাজারো বাস্তবের প্রতিচ্ছবি। পরকীয়া শুধু একজন নয়—পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সম্পর্ক মানে শুধু ভালোবাসা নয়, বিশ্বাস ও সংযমেরও নাম। আর ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অবিশ্বাসের জায়গা থাকলে, প্রয়োজন খোলাখুলি কথা, সৎ স্বীকারোক্তি—not ভিডিও বার্তা আর বিষের বোতল।

জীবন একটাই। সম্পর্ক থাকুক আলোয়, আড়ালে নয়।

বিঃদ্রঃ – নাম ও ঘটনা আংশিক পরিবর্তিত হয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে।

|| সমাপ্ত ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন