Homeদক্ষিণবঙ্গBankura: অশ্রুজলের মোহনা

Bankura: অশ্রুজলের মোহনা

রাত গভীর হয়। নদীর পাড়ে অপেক্ষায় বসে কাঁদছেন বিনীতের বাবা।

বিকেলের রোদ তখন একটু একটু করে কমে আসছে। হাওয়ায় শিউলি ফুলের গন্ধ। শান্ত গ্রাম খড়িবাড়ি। গ্রামের স্কুল থেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাইসাইকেল চেপে কিছু কিশোর রওনা দিয়েছিল রামেশ্বর নদীর ঘাটে। ছুটির মেজাজে তারা কেউ বইয়ের ব্যাগ ফেলে দিয়েছে পাড়ে, কেউ মোবাইলে সেলফি তুলছে, আবার কেউ স্রেফ ঘাটের ধারে বসে পায়ের আঙুল ডুবিয়ে ঠান্ডা জলে হিমশীতল শান্তি খুঁজছে।

এই দলে ছিল রাজ, অয়ন, পার্থ, শুভ, ঋতব্রত, রোহন আর তিন বন্ধু—বিনীত, অর্ক ও সৌম্য। ওদের বয়স তেরো-চৌদ্দ। নবম শ্রেণির ছাত্র। ঠিক সেই বয়স যখন জীবনটা একটা রঙিন ঘুড়ির মতো—দিগন্তের ওপারে উড়তে চায়, কিন্তু সুতোর টান বোঝে না।

বিনীত, অর্ক ও সৌম্যই প্রথম জলে নামে। পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুরা হইহুল্লোড় করছে—“আরও ভেতরে যা না!”, “ডুব মার, ডুব!”। কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি নদী তখন ভয়ানক রূপ নিচ্ছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রামেশ্বর নদীর জল অনেক বেড়ে গিয়েছিল, আর তার সঙ্গে স্রোতও তীব্র হয়েছিল।

মুহূর্তের মধ্যেই চিৎকারে ভেঙে পড়ে নিরবতা—“ওরা ভেসে যাচ্ছে! বাঁচাও! কেউ বাঁচাও!”

রোহন দৌড়ে যায় গ্রামের দিকে। অয়ন ফোন করে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। স্থানীয় মানুষ ছুটে আসেন। বালতির মতো করে খুঁজে খুঁজে তারা নদীর বুক চষে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে আসে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, স্পিড বোটে শুরু হয় অভিযান।

কিন্তু সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ে, সন্ধ্যা নামে, অথচ খোঁজ মেলে না বিনীত, অর্ক আর সৌম্যের।

পার্থের চোখে জল, সে ফিসফিস করে বলল, “আমরা তো শুধু একটু মজা করতে চেয়েছিলাম…”

রাত গভীর হয়। নদীর পাড়ে অপেক্ষায় বসে কাঁদছেন বিনীতের বাবা। “স্কুলে পাঠালাম, ভাবলাম বই নিয়ে ঘরে ফিরবে। জানতাম না… নদীই তাকে নিজের করে নেবে…”

গল্পটা শেষ নয়। গল্পটা একটা সতর্কবার্তা—নদীর টান অনেক সময় জীবনকে নিয়ে যায় এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে ফেরা হয় না।
শৈশবের আনন্দ থাকুক, কিন্তু তার যেন দাম না হয় জীবন।

বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।

|| সমাপ্ত  ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন