Homeদক্ষিণবঙ্গMurshidabad: বর আনতে পুলিশ ফাঁড়ি

Murshidabad: বর আনতে পুলিশ ফাঁড়ি

প্রেম যেমন অন্ধ, তেমনি আইন কিন্তু খোলা চোখে হাঁটে।

গ্রামটা এমনিতেই শান্ত, তবে যেদিন এই ঘটনাটা ঘটল, পুরো গ্রাম যেন নাটকঘরে পরিণত হল। সেই সন্ধ্যেয় বাঁশি, ঢোল, ডান্স, আর বিরিয়ানির গন্ধে গ্রাম জুড়ে উৎসবের আমেজ। কারণ, রতন পাল নামের এক যুবকের বিয়ে হচ্ছে! বরপক্ষ, কনেপক্ষ, পাশের গ্রাম, এমনকি বাঁদরডাঙার কাকুরাও এসে হাজির। সবাই বলছিল, “রতনের তো এবার মস্ত বিয়ে!”

কনে, চঞ্চলা মণ্ডল, দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি লাজুক। শাড়ি-পরা চঞ্চলাকে দেখে গ্রামের ঠাকুমারাও বলছিল, “এতো আমাদের সময়ের মতই সুন্দর বউ!”

কিন্তু, যেই না মালা বদলের সময় আসলো, তখনই ঢুকল খাকি পোশাকে একদল মানুষ—দিগ্বিজয়ী ভঙ্গিতে সোজা ঢুকে এলেন ঝাঁসির ঝড়ো সাব-ইন্সপেক্টর শকুন্তলা ঘোষ।

“বিয়েটা বন্ধ করুন!” বলেই কড়া গলায় হুকুম।

সবার মুখ হাঁ। প্যান্ডেলের ডেকরেটার পর্যন্ত বলল, “ম্যাডাম, আমরা তো ফ্লেক্সেই ছাপিয়েছি! আপনি তো স্ক্রিপ্ট বদলে দিলেন একেবারে!”

শকুন্তলা ঘোষ কড়া গলায় বললেন, “কনে চঞ্চলা নাবালিকা। স্কুলের জন্মদিনের রেজিস্টার অনুযায়ী ওর বয়স ১৬ বছর ৪ মাস!”

পাশ থেকে বরের কাকা ফিসফিস করে বললেন, “ওই জন্মদিন তো পুরনো! আমরা তো বলেছি ও এখন বড়!”

পুলিশ বলল, “চটকদার কেক কেটে জন্মদিন করলে কেউ বড় হয়ে যায় না। আইন তো মানতেই হবে!”

তৎক্ষণাৎ বরের বাবা, কনের বাবা, এমনকি চঞ্চলা নিজেও ঠাঁই পেল পুলিশের ভ্যানে। রতনের তো তখন মুখে জল পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে। শেষমেশ তার গলায় মালা পড়ার বদলে পড়ল দুঃখের নিঃশ্বাস।

গ্রামে এখন সবাই বলছে, “এই বিয়ে তো হল না, তবে গল্পের মশলা হল ভালোই!” কেউ বলছে, “চঞ্চলাও ধরাশায়ী হল প্রেমে,” কেউ বলছে, “পুলিশ এখন শুধু চোর ধরেনা, বর-কনেও ধরে!”

তবে ধানপুর থানার এই তৎপরতায় জেলাজুড়ে বাহবা মিলেছে। সাব-ইন্সপেক্টর শকুন্তলা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল! কেউ তাঁকে বলছে “বিয়াভাঙা বাজরঙ্গী”, তো কেউ বলছে “বিয়ের মাঠে ব্যারিকেড বসানো ম্যাডাম”।

শেষ কথা:
প্রেম যেমন অন্ধ, তেমনি আইন কিন্তু খোলা চোখে হাঁটে। তাই ভালোবাসার বয়স না হলে বিয়ে নয়, নইলে সোজা মণ্ডপ থেকে থানার হাওয়াবদল!

বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।

|| সমাপ্ত  ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন