Homeদক্ষিণবঙ্গDurgapur: রতনবাবুর কেটলি - তালা রহস্য

Durgapur: রতনবাবুর কেটলি – তালা রহস্য

রতনবাবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন, বাপরে!

গোপালপুর গ্রামে সবাই জানে, রতনবাবুর বাড়িটা যেন একেবারে সিনেমার সেটের মতো। তিনতলা দোতলার খোলা বারান্দা, টবে টবে ফুল, আর ভেতরে ঢুকলেই ঝকঝকে আসবাব। রতনবাবু পেশায় ব্যবসায়ী—মশলার ব্যবসা করেন। গ্রামের বাইরে তিনটে দোকান, শহরে হোটেলও আছে।

জুলাইয়ের ৯ তারিখে তাঁর বউদি পাখির বিয়ে। সবাই মিলে দিল্লি গেল। যাওয়ার আগে কড়া নির্দেশ, “দরজা ভালো করে বন্ধ করো। আর এই সিসিটিভি ক্যামেরাটা বন্ধ করো, নইলে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাবে।”

পাঁচ দিন পর, মঙ্গলবার সকালে ফিরেই রতনবাবু চোখ কপালে তুললেন। মূল গেট খুলতেই মনে হল যেন ঘরের ভেতর ঝড় বয়ে গেছে। মেঝেতে কাপোর, ফ্রিজের দরজা খোলা, আলমারির ড্রয়ারগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

“এ কী গো! ভূত নাকি?” স্তম্ভিত হয়ে বললেন রতনবউ।

তখনই দোতলার ডাইনিংয়ে গিয়ে চোখে পড়ল আসল দৃশ্য—চায়ের কাপ দুইটো সিঙ্কের পাশে পড়ে আছে, আর কেতলিতে আধখানা দুধ। পাশের চেয়ারটায় মাখনের ডিব্বা ফাঁকা!

রতনবাবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন, “বাপরে! চোরেরা তো চা-খাওয়ার আয়োজনই করে গেছে!”

গ্রামের সবাই ছুটে এল। পঞ্চায়েত প্রধান রঘু হাঁসতে হাঁসতে বললেন,
“দেখছেন তো রতনবাবু? চোরেরা শুধু সোনা-টাকাই নেয়নি, আপনার দুধ-চিনি দিয়েও ভোজ করেছে। এখন থেকে বাড়ি ছাড়ার আগে তালা বন্ধ করলেই হবে না, কেতলির চাবিও সঙ্গে নিয়ে যাবেন!”

পুলিশ এল। দারোগাবাবু চশমা ঠিক করতে করতে বললেন,
“আমাদের প্রাথমিক ধারণা, চোরেরা বাউন্ডারির জাল সরিয়ে জানালা দিয়ে ঢুকেছে। তারপর তো দেখতেই পাচ্ছেন—তিনতলা জুড়ে চালিয়েছে তাণ্ডব আর চা-পার্টি।”

রতনবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন,
“এমন চোরও আছে রে ভাই? চুরি করতে এসে চা খেয়ে যায়! বাথরুমটাও নোংরা করে গেছে!”

রঘু হেসেই খুন, “ঠিকই তো, চোরেরা কেবল চোর নয়, ওরা তো অতিথিও বটে—চা না খাইয়ে পাঠানো কি ঠিক?”

এভাবেই গোপালপুরের মানুষ চোরের চা-পার্টির গল্পে হাসতে হাসতে হাটে বাজারে গপ্পো বলতে লাগল। তবে রতনবাবু? তিনি সেদিন থেকে কেতলির ঢাকনাও তালা মেরে রাখেন! 😄🍵🗝️

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন