Homeদক্ষিণবঙ্গFarakka: সোনার বাড়িতে ভয়াল গঙ্গা

Farakka: সোনার বাড়িতে ভয়াল গঙ্গা

নতুন করে লড়াই শুরু হয়—বাঁচার লড়াই, থাকার লড়াই, নদীর বিরুদ্ধে লড়াই।

গভীর রাত, চারিদিক নিস্তব্ধ। সামশেরগঞ্জের উত্তর চাচণ্ড ও মধ্য চাচণ্ডের মানুষরা দিনের ক্লান্তি শেষে ঘুমে ডুবে আছেন। আচমকা এক বিকট শব্দ ভেদ করে দেয় সেই নীরবতা। নদীর গর্জন যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকটি বাড়ির মাটি ধসে যায় গঙ্গার বুকে।

রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি বিছানা ছেড়ে বাইরে ছুটে আসেন বাসিন্দারা। চোখের সামনে বাড়ির একাংশ গঙ্গার গ্রাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। কারও গরু, কারও গাছ—সবই নদীর স্রোতে ভেসে গেল। প্রাণ বাঁচালেও, মাথার উপরের ছাদ হারাল বহু পরিবার। আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়ি ফাটল ধরা অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমনকি নদীর ধারে থাকা প্রাচীন মন্দিরেও দেখা দিয়েছে ভয়ানক ফাটল।

সকাল হতেই আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন মানুষ। হাতে যতটুকু আসবাবপত্র নেওয়া সম্ভব, তা নিয়েই অন্যত্র আশ্রয় খুঁজছেন তাঁরা। কেউ প্রতিবেশীর বাড়িতে, কেউ আত্মীয়ের কাছে, কেউ বা অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে। তবুও এখনও শত শত পরিবার বিপদের মুখে।

প্রশাসনের আধিকারিকরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। নদীর ধারে বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিত করে মানুষকে সরে যেতে বলছেন। দুর্গতরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে নদীভাঙন রোধ ও পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে, বিপদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। জানা গিয়েছে, ফরাক্কা ব্যারেজে গঙ্গার জলস্তর বিপদ সীমা থেকে ৭.১০ ফিট উপর দিয়ে বইছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় আপস্ট্রিমে জলস্তর ছিল ৮০.১০ ফিট, ডাউনস্ট্রিমে ৭৮.৯৫ ফিট। সোমবার রাত থেকেই পুলিশ ও প্রশাসন মাইকিং করে গঙ্গা ও বাগমারি নদীর ধারের মানুষদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে অনুরোধ জানাচ্ছে। তবুও বহু মানুষ রাত কাটাচ্ছেন আতঙ্কে, কারণ নদীর জল ইতিমধ্যেই আশপাশের গ্রামে ঢুকে পড়েছে।

সামশেরগঞ্জের মানুষ জানেন, এই নদীভাঙন তাঁদের কাছে নতুন নয়। বহুবার বাড়ি, জমি, গাছপালা, এমনকি স্মৃতিবাহী মন্দিরও গঙ্গার গ্রাসে হারিয়ে গেছে। তবুও প্রতিবার নতুন করে লড়াই শুরু হয়—বাঁচার লড়াই, থাকার লড়াই, নদীর বিরুদ্ধে লড়াই।

বিঃদ্রঃ – শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।

|| সমাপ্ত  ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন