Homeদক্ষিণবঙ্গNadia: নবদ্বীপে জলজ অতিথি

Nadia: নবদ্বীপে জলজ অতিথি

প্রথমে মনে হয়েছিল বড় কোনও কাঠের গুঁড়ি।

নবদ্বীপের সকালটা ছিল একেবারেই শান্ত। রানীর ঘাটে প্রতিদিনের মতো আজও পুণ্যার্থীরা ভোর হতেই ভিড় জমিয়েছেন। কেউ গঙ্গাজলে ডুব দিচ্ছেন, কেউ জল ভরে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আবার ঢাকুর গলায় ভক্তিগীতি আওড়াচ্ছেন। সূর্যটা তখন ঠিক মাথার উপর, ঘাটের পাথর গরম হয়ে উঠেছে। হঠাৎই সেই শান্তির জায়গা যেন হয়ে উঠল আতঙ্কের আঁধার।

ঘটনাটা ঘটে সকাল দশটা নাগাদ। একদল পুণ্যার্থী ঘাটে স্নান করছিলেন। হাসিঠাট্টা, জল ছিটিয়ে মজা চলছিল তখন। এমন সময় একজন পেছনে তাকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন—”ওই দেখো! ওটা কী?!”

সবাই থমকে যায়। চোখ যায় মাঝনদীতে। আর সেখানেই দেখা যায় একটা বিশাল কায়া ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে। প্রথমে মনে হয়েছিল বড় কোনও কাঠের গুঁড়ি। কিন্তু মুহূর্তেই সবাই বুঝতে পারে, ওটা একটা কুমির!

কেউ চিৎকার করে বলে ওঠেন, “কুমির! কুমির!”
সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় ছুটোছুটি। যাঁরা পানিতে ছিলেন, প্রাণ হাতে করে ডাঙ্গায় উঠে আসেন। ভেজা শরীরে কেউ শাড়ির খোঁচা ঠিক করছেন, কেউ আবার অবাক চোখে মাঝনদীর দিকে তাকিয়ে আছেন। অনেকে মোবাইল বার করে ভিডিও তুলতে শুরু করেন, আবার কেউ কেউ রীতিমতো কাঁপতে কাঁপতে ভগবানের নাম নিচ্ছেন।

রানীর ঘাটে উপস্থিত রমা দিদি বললেন, “জীবনে কখনও এত বড় কুমির দেখিনি! চোখের সামনে যখন জলের নিচে ওই জন্তুটা নড়ছিল, মনে হচ্ছিল আমি আর উঠতে পারব না।”

খবরটা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে নবদ্বীপ শহরে। কেউ বলেন, এটা সেই পুরনো কুমিরটাই, যেটা নাকি কয়েক মাস আগেও দেখা গিয়েছিল। আবার কেউ বলছেন, নদীর জল কমে যাওয়ায় কুমির ডাঙার কাছে চলে এসেছে।

স্থানীয় মানুষদের দাবি, গত কয়েক মাসে একই ভাবে বেশ কয়েকবার কুমির দেখা গেছে ভাগীরথীর বুকে। স্নান বন্ধ করে দিয়েছিলেন বহু পুণ্যার্থী। এবার আবারও সেই আতঙ্ক ফিরে এসেছে।

বন দফতরে খবর পাঠানো হয়েছে। তাঁরা কবে আসবেন, কী ব্যবস্থা নেবেন—তা এখনো কেউ জানে না। তবে এই মুহূর্তে ঘাটের চারদিকে একটা অদৃশ্য ভয় ছড়িয়ে আছে।

ঘাটের পাশেই বসে থাকা এক বৃদ্ধ পূর্ণার্থী ধীর গলায় বললেন, “জল পবিত্র ঠিকই… কিন্তু এখন ও জলে ভক্তির আগে সাহস লাগে।”

রানীর ঘাটে আজও ভাগীরথী বইছে নিরবধি। কিন্তু তার বুকের নিচে ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছে সেই অতিথি—সে কথা জানে না কেউই। এই নদীর গল্পে এখন কুমিরও এক চরিত্র, আর মানুষ? তারা এখন একটু দূর থেকে শুধু নদীকে দেখছে—ভক্তি আর ভয়, দুই মিলে এক আশ্চর্য অনুভব নিয়ে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন