চাঁদপুরের সীমান্ত লাগোয়া এক ছোট্ট গ্রামে ছিল “বুদ্ধিমন্ত হাইস্কুল”। সেখানকার নিয়ম মেনে চলা শিক্ষক আর দুষ্টু-মিষ্টি ছাত্রদের নিয়ে বেশ জমজমাট পরিবেশ। প্রতিদিন সকালে ঘণ্টা বাজলে শ্রেণিকক্ষে ঢুকত ছাত্রছাত্রীরা, আবার ঘণ্টা বাজলেই ছুটির হাঁক!
কিন্তু একদিন সকালে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটল।
শুক্লেশ্বর মাস্টারমশাই, যিনি ‘ঘণ্টা ইনচার্জ’ নামে পরিচিত, খাতাপত্র গুছিয়ে গিয়ে পৌঁছেছেন স্কুলের বারান্দায়। উদ্দেশ্য: “ঘণ্টা বাজাও, ক্লাস চালাও”। হাতে ঘণ্টা না পেয়ে একটু দিশেহারা হয়ে বললেন,
“আরে, ঘণ্টা গেল কোথায়?”
মিনিট পাঁচেক কেটে গেল। সবাই মিলে শুরু হল “ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান”। লাইব্রেরি ঘর, স্টোররুম, এমনকি পিটি স্যারের টেবিলের নিচেও খোঁজ হল। কোথাও ঘণ্টার নামগন্ধ নেই!
ততক্ষণে ছাত্ররা বেজায় খুশি। ক্লাস শুরু না হওয়া মানেই টেনিদা গল্প, চুপিচুপি লুডো আর সুকান্তর কবিতা পাঠের ছুতোয় গল্প গুজব।
প্রধান শিক্ষক কেষ্টবাবু তখন মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। ঠিক সেই সময় ইংরেজির মিস ঝর্ণা দেবী বললেন,
“দেখুন, এই চোরেরা কিন্তু শুধু ঘণ্টা নেয়নি! অফিস ঘরের তালা ভাঙা, কম্পিউটার উধাও, সিসিটিভি-র হার্ডডিস্কও নেই!”
গল্পটা যেন থ্রিলার হয়ে উঠল!
রীতিমতো CSI-ধাঁচে তদন্তে নামল স্থানীয় থানার পুলিশ। এসআই হারাধন হাঁসিমুখে বললেন,
“চোরেরা বেশ পাকা! সিসিটিভির তার কেটে দিয়েছে, হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে, আর সর্বোপরি ঘণ্টাটাও নিয়েছে—মানে, বাঙালি চোরদের রসবোধ অসাধারণ!”
গোটা গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়াল—“ঘণ্টা চুরি হয়েছে? তাও আবার স্কুল থেকে?”
পরিচালনা সমিতির সভাপতি তপন বাবু মুখ গম্ভীর করে বললেন,
“কম্পিউটার গেল, বোঝা গেল। কিন্তু ঘণ্টা? এতেই তো স্কুল চলে! এবার কী দিয়ে ছুটি দেব?”
এদিকে গ্রামের বাচ্চারা প্ল্যান করে ফেলেছে নতুন ছুটির সংকেত—
একটা ছেলে ছুটির সময় হালকা করে “হুঁ হুঁ” বলে হাঁকে, বাকিরা তখন চুপিচুপি ব্যাগ গুছিয়ে স্কুল ছাড়ে।
ঘণ্টা আর ফেরত পাওয়া গেল না। তবে গুঞ্জন আছে, পাশের গ্রামের লালু নামক ছেলে নাকি রাতভর গ্যারেজে বাজায় সেই ঘণ্টা—“তিনবার ঠুং করে বাজলে চা বানায়, চারবার বাজলে ডিম ফোটায়!”
কিন্তু স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা? তারা দিব্যি মজা করে বলছে,
“ঘণ্টা না থাকলে কী হয়েছে, অন্তত হোমওয়ার্ক চেক হয় না!”
শেষ কথাঃ
স্কুলে ঘণ্টা না থাকলে শুধু সময় নয়, অনেক স্মৃতিও হারিয়ে যায়। তাই বলাই যায়—
ঘণ্টা চুরি, কাণ্ড মহাবিরল!
বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।
|| সমাপ্ত ||

