শনিবার সকালে বেলানগর স্টেশন। ভোরের কুয়াশা সবে সরে গেছে। প্ল্যাটফর্মে বসে আছে রবিউল মোল্লা, বয়স চব্বিশ। হাতে মোবাইল, ট্রেন আসতে দেরি হচ্ছে বলে গেম খেলছে।
হঠাৎ পেছন থেকে এক কর্কশ গলা—
“এই! কী করছিস এখানে? ফোন দেখছিস কেন?”
রবিউল চমকে তাকাতেই সামনে দাঁড়িয়ে টহলদারি বাহিনীর এক সিভিক ভলান্টিয়ার। তার হাতে মোটা লাঠি।
“স্যার, টিকিট কেটে বসেছিলাম, একটু গেম খেলছিলাম…”
কথা শেষ হবার আগেই ভলান্টিয়ারের হাত থেকে লাঠি উঠে এল।
ঠাস!
রবিউল ফোন আঁকড়ে ধরল। ভলান্টিয়ার তখন ফোনটা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। দু’জনের ধস্তাধস্তি। তারপর জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে স্টেশনের অফিসের দিকে।
অফিসের গ্রিলের দরজায় এসে রবিউল প্রাণপণ আঁকড়ে ধরল,
“আমি কিছু করিনি!”
ভলান্টিয়ার তখনও ধাক্কাধাক্কি করছে। হঠাৎ লাঠির আরেকটা আঘাত এল রবিউলের হাতে।
চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে গেল সবকিছু।
আঙুলের উপরের অংশ কেটে নিচে পড়ে গেল।
রবিউল যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। চারদিকে লোক জড়ো হয়ে গেল।
“এই কী হচ্ছে? টিকিট কেটে বসে ছিল ছেলে, আর তুমি ওকে এমন মারছ?”—এক বৃদ্ধা চেঁচিয়ে উঠল।
আরেকজন বলল, “ওরে বাবা! আঙুলটাই তো কেটে ফেলল!”
ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে গেছে পুরো এলাকায়। বাজারের দোকানিরা, রিকশাওয়ালারা সবাই এসে স্টেশনের সামনে ভিড় করল।
“ওকে আগে হাসপাতালে নিয়ে যাও!” কেউ চিৎকার করল।
রবিউল পরে জানাল, “আমি তো কিছু করিনি। ফোনটা নিয়ে গেল। তারপর মারতে মারতে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি গ্রিল ধরে ছিলাম, তখনই আঘাত করল, আঙুল কেটে গেল।”
পাশেই এক যুবক দাঁড়িয়ে ছিল, বলল,
“আমরাও তো ফোন দেখি। কেউ তো এমন করে না! ওকে এমনভাবে মারল কেন?”
পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দিল। অভিযুক্ত ভলান্টিয়ারকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেরা শুরু হল।
কিন্তু মানুষের মনে রয়ে গেল একটাই প্রশ্ন—
“টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মে বসে ফোন দেখলেই কি আঙুল হারাতে হবে?”
বেলানগর স্টেশনের সেই রক্তাক্ত দুপুর তাই আজও মানুষের মুখে মুখে ঘোরে এক শিউরে ওঠা গল্প হয়ে।
বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।
|| সমাপ্ত ||

