Homeদক্ষিণবঙ্গGhatal: জলের নিচে ছুটির ঘণ্টা

Ghatal: জলের নিচে ছুটির ঘণ্টা

এখানেই পড়ত রূপা, অরূপ, তনিমা আর ছোট্ট কালু।

ঘাটাল মহকুমার ছোট্ট এক গ্রাম আশাগড়, যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল প্রাচীন এক পাঠশালা—আশাগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়। লাল টালির ছাউনি, দেয়ালে অঙ্কন করা ‘সুখে থাকো, শিখে নাও’-র ছবি, আর সামনে খেলার ছোট্ট একটা মাঠ। এখানেই পড়ত রূপা, অরূপ, তনিমা আর ছোট্ট কালু।

জুলাই মাসের এক ভোরে, আকাশ যেন হঠাৎ রেগে উঠল। সারারাত বৃষ্টি পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সকালে যখন নদী তার বাধ ভাঙল—তখন কেউই বুঝে উঠতে পারেনি কতটা ভয়ঙ্কর হবে পরিণতি।

এক মুহূর্তে জল এসে ঢুকে পড়ল স্কুলের উঠোন পেরিয়ে ক্লাসঘরের ভিতরেও। বইখাতা, বেঞ্চ, বোর্ড—সব জলের নিচে তলিয়ে গেল। স্কুলঘর হয়ে উঠল যেন একটা ছোট পুকুর। রূপারা ডিঙি নৌকা চেপে স্কুলের সামনে গিয়ে দেখল—তাদের খেলার মাঠ এখন হাঁসের সাঁতার কাটার জায়গা।

শিক্ষক হেমন্তবাবু ডুকরে উঠলেন, “আহা, বাচ্চাগুলো তো স্কুলে আসতে চাইছিল খুব। কত প্ল্যান ছিল কুইজ প্রতিযোগিতার! সব ভেসে গেল।”

প্রতি দিন রূপারা নদীর ধারে গিয়ে দেখে, জল একটু কমছে কিনা। তারা জানে, স্কুলে গিয়ে অঙ্কের ক্লাসে হাসাহাসি, বাংলা গল্প পড়ে হাততালি দেওয়া, রিকশা আন্টির খিচুড়ির গন্ধ—সব ফিরে পেতে হলে আগে জলের স্রোতকে বিদায় জানাতে হবে।

মাঝে মাঝে কেউ কেউ বই হাতে নিয়ে গাছতলায় ক্লাস করে। হেমন্তবাবু চেয়ারে বসে বোঝান, “পড়াশোনা থেমে গেলে চলবে না রে। স্কুল বন্ধ, কিন্তু মন তো খোলা।”

ঘাটালের মহকুমাশাসক সুমনবাবুও এলেন একদিন, বাচ্চাদের হাতে শুকনো বই ও খাতা তুলে দিলেন। বললেন, “স্কুল জলমগ্ন, কিন্তু শিক্ষার আলো নিভে যাবে না। জল নামলেই তোমাদের ক্লাস আবার শুরু হবে।”

আজও আশাগড় প্রাথমিক বিদ্যালয় তার পাটাতনের ভেতর জলের চাপে নীরব, কিন্তু তার বারান্দায় জমে থাকা রোদ আর বাতাস জানে—এই ছেলেমেয়েরাই একদিন বইয়ের বালতি বেয়ে আবার নতুন সকাল নিয়ে আসবে।

শিক্ষা ভেসে না যাক, ভেসে যাক শুধু জল।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন