Homeদক্ষিণবঙ্গSocial Media: সোশ্যাল মিডিয়া র‍্যাগিং

Social Media: সোশ্যাল মিডিয়া র‍্যাগিং

লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, এবং অভিযুক্তের গবেষণা ডিগ্রি বাতিল করার আবেদনও করে।

একটি নামকরা বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করত অমিতাভ সেন নামে এক মেধাবী তরুণ। অমিতাভ গবেষণার তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, ভবিষ্যতে বড় বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। উত্তর দিকের এক ছোট্ট শহরে তার বাড়ি। পরিবার-পরিজনের আশা–অভিলাষ তাকে ঘিরেই ছিল।

কিন্তু গবেষণাগারের ভেতরে ধীরে ধীরে শুরু হয় এক অদৃশ্য যন্ত্রণা। ল্যাবের এক সিনিয়র গবেষক, সুজয় নামের ছাত্র, তাকে প্রায়ই অপমান করত, কাজ নিয়ে কটাক্ষ করত, কখনও ইচ্ছে করেই ভুল ধরত। প্রথমে অমিতাভ ভেবেছিল—এ শুধু মজা, হয়তো রাগ করলে চলবে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আচরণটা হয়ে উঠল অসহ্য।

অমিতাভ বিষয়টি তার গবেষণা সুপারভাইজারকেও জানায়, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয় না। এরপর সে প্রতিষ্ঠানের অ্যান্টি র‌্যাগিং সেলের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। সেখান থেকেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দিন দিন মন ভেঙে যাচ্ছিল অমিতাভর। সে অনুভব করছিল, তার কথা কেউ শুনছে না। মনের ভেতরে হতাশার পাহাড় জমতে থাকে। অবশেষে একদিন, সবকিছু হারানোর আগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে যায় তার যন্ত্রণা—সুজয় ও সুপারভাইজারের নাম উল্লেখ করে জানায়, কীভাবে সে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, এবং অভিযুক্তের গবেষণা ডিগ্রি বাতিল করার আবেদনও করে।

তারপর, এক গভীর রাতে, হোস্টেলের ঘরে বসে সে অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু পরের দিন ভোরেই নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ।

অমিতাভর দিদি পরে বলেন, “এমন ছেলেকে আমরা হারালাম শুধু র‌্যাগিংয়ের জন্য।”

শহরের স্থানীয় কাউন্সিলর, যিনি ছোটবেলা থেকেই অমিতাভকে চিনতেন, শোক প্রকাশ করে বলেন, “ও ছিল সবার প্রিয়, হাসিখুশি ছেলে। কেন এমন পথ বেছে নিল, আমরা কেউ ভাবতেই পারছি না।”

অমিতাভর গল্প আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক সতর্কবার্তা—যতই বড় নাম হোক, ছাত্রদের মানসিক নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না হয়, তবে প্রতিভা নষ্ট হয়ে যায় চিরতরে।

বিঃদ্রঃ – গল্পের চরিত্রের সাথে বাস্তবের চরিত্রের আর স্থানের কোনো মিল নাই। শুধুমাত্র কাহিনীর অবলম্বনে লেখা।

|| সমাপ্ত  ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন