Homeদক্ষিণবঙ্গBardhaman: শাশুড়ি সামলানোর টিপস

Bardhaman: শাশুড়ি সামলানোর টিপস

জামাই চাই, জামাই? সেল, সেল, সেল!

বর্ধমানের গুশকরা শহরে একটা সকাল যেন আলাদা রঙে রাঙানো হয়েছিল। কেউ দুধ আনতে বেরিয়েছে, কেউ বাজারে এসেছে পটল কিনতে—ঠিক তখনই শহরের হাটতলায় শুরু হল এক আজব দৃশ্য।

জামাই চাই, জামাই? সেল, সেল, সেল! আজই ভাড়ায় জামাই নিয়ে যান, বোনাসে পাবেন পুঁটি মাছ!

চোখ কচলে দেখল লোকজন—তিন তরুণ পরনে রঙিন পাঞ্জাবি, হাতে ছোট মাছ আর শোলার মুকুট পরে হাঁকডাক করছে। কারও হাতে দইয়ের ভাঁড়, কারও হাতে চাটনি দেওয়া তেঁতুল। আর মুখে সেই দুর্দান্ত হাসি—যেন তারা হাটের হিরো!

লোকজন প্রথমে ভেবেছিল কেউ সিনেমার শুটিং করছে। তারপর বুঝল—আরে না! এটা তো পুরোটাই লাইভ কমেডি। আশেপাশের দোকানদার থেকে শুরু করে মাছ বিক্রেতা—সবাই দাঁড়িয়ে পড়েছে। হ্যাঁ, তারা শুধু জামাই ভাড়ায় নিচ্ছে না, তারা জামাই “প্যাকেজ”-এ দিচ্ছে!

প্যাকেজ ১: জামাই উইথ পুঁটি মাছ ও দই—টোটাল জামাইষষ্ঠী ভার্সন ১, দাম মাত্র ৩৯৯ টাকা।

প্যাকেজ ২: জামাই প্লাস ‘তিনটে প্রশংসা’—আপনার মেয়ের রাঁধুনি গুণ, শাশুড়ির স্বাদু হাত আর গৃহস্থালির দক্ষতা নিয়ে লাইভ প্রশংসা—৫৯৯ টাকা মাত্র!

প্যাকেজ ৩: জামাই এবং ‘সৌজন্য পিঁড়ি-চেয়ার বসে খাওয়া’ অপশনসহ ৭৯৯ টাকা। ইনস্টাগ্রামে লাইভ যাবে।

লোকের হাসতে হাসতে পেট ব্যথা! এমনকি হাটের দাদা বললেন, “বাপু, আমার এক মেয়ে আছে… কিন্তু জামাই এরকম হলে তো আমি জামাইষষ্ঠী রোজ করব!”

আসলে সেই তিন যুবক—শুভজিৎ, রোহন আর সোমনাথ, তিনজনেই বেশ কয়েক বছর ধরে বিয়ের খোঁজে দৌড়চ্ছেন। প্রেমে ব্যর্থ, পাত্রী দেখাও বন্ধ। এবার ভাবলেন—যখন কেউ আমাদের নিতে চাইছে না, তখন আমরাই নিজেদের বাজারে তুলে ধরি!

শুধু মজার ছলেই নয়, ওরা চাইছিল মানুষ একটু হাসুক, উৎসবটা হালকা মন নিয়ে কাটাক।

এদিকে একজন মহিলা দাঁড়িয়ে থেকে বলেই ফেললেন, “জামাই লাগবে না বাবা, ওই পুঁটি মাছটা দাও দেখি! খুব টাটকা লাগছে।”

তিন ‘ভাড়াটে জামাই’ একযোগে বলে উঠলেন—“মাছ ছাড়া জামাই বিক্রি হবে না, এটা কম্বো অফার!”

সন্ধের আগে তাদের চারদিকে ভিড় জমে যায়। কেউ সেলফি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে। টিকটক থেকে ইনস্টা—তিনজনে হঠাৎ হয়ে যান ইন্টারনেট সেনসেশন। ‘ভাড়াটে জামাই’ নামে তাদের নতুন ইউটিউব চ্যানেল খুলে ফেলে সোমনাথ।

এক সপ্তাহের মধ্যে সেই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা হয় ৫০ হাজার। এবার তারা ভিডিও করে—“জামাই ট্রেনিং ক্লাস”, “শাশুড়ি সামলানোর ৫টি সহজ উপায়”, “বিয়ের আগে জানুন জামাই টিপস”!

শেষে কী হয়?

গল্পের সবচেয়ে মজার টুইস্ট হল—এই ভিডিও দেখে এক পাত্রীর মা ফোন করেন শুভজিতের কাছে।

– “বাবা, তুই মজা করিস ভাল। কিন্তু সত্যি যদি জামাই হতে চাস, আমার মেয়েটা খুব ভালো রান্না করে…”

আর এইভাবেই ভাড়াটে জামাইদের একজন হয়ে যায় স্থায়ী জামাই।

শেষ কথা

জামাইষষ্ঠী মানে শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, একটু হাসির উৎসব, একটু হালকা পাগলামিও। আর সেটা করে দেখালেন শুভজিৎ, রোহন আর সোমনাথ—যারা প্রমাণ করল, ভালোবাসা না থাকলেও পুঁটি মাছের প্যাকেজে অনেক কিছু সম্ভব!

|| সমাপ্ত ||

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন