Homeদক্ষিণবঙ্গBurdwan: বর্ধমানে ভরা দুপুরে বিস্ফোরণ

Burdwan: বর্ধমানে ভরা দুপুরে বিস্ফোরণ

তবে কাহিনির এখানেই শেষ নয়।

ভরদুপুর। সূর্য মাথার উপর রুদ্র রূপে ঝলসে উঠেছে। বাতাস থমথমে, চারদিকে চাপা উত্তেজনা। হঠাৎ, বর্ধমানের তেজগঞ্জ এলাকায় যেন আকাশ ফেটে পড়ল—এক বিকট শব্দ! তারপর পরপর তিনটি বিস্ফোরণ।

মানুষ দৌঁড়ে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। করুণা সিন্ধু ধারা, আশির কোঠায় পা দেওয়া এক বৃদ্ধা, হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠেন, “বোমা পড়েছে! যুদ্ধ লেগে গেছে বুঝি!”

চারদিকে হইচই, আতঙ্ক, দৌড়াদৌড়ি। কেউ ফোন করছেন বাড়ির বাইরে থাকা পরিজনদের, কেউ খবর চেয়ে ছুটছেন রাস্তার দিকে।

কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছেই সত্য উদ্ঘাটিত হয়। দুর্গাপুর থেকে কলকাতামুখী একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্যাঙ্কারের পরপর তিনটি টায়ার ফেটে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়েছে জাতীয় সড়কের সাইড লেনে। সাইড লেন বন্ধ, চারপাশে কাঁচা সিমেন্টের ধুলোয় আকাশ ধূসর। চালক আহত, তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে কাহিনির এখানেই শেষ নয়।

যখন ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত, সেই সময়েই সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদের নিমতিতা গ্রামে ঘটে যায় আরেক ঘটনা। রাতে গ্রামের এক প্রান্তে বড়জদিহি এলাকায় মাঠের ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায় এক কালো ধাতব বস্তু। দেখতে অনেকটা ড্রোনের মতো। খবর পৌঁছায় ৭১ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়নে। আধা ঘণ্টার মধ্যেই এলাকা ঘিরে ফেলে জওয়ানরা। ড্রোনটি ধরা পড়ে।

“ড্রোনটা এলো কোথা থেকে? কে পাঠাল?” — প্রশ্ন উঠেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভ্যন্তরে।

কেউ বলেন, “সিগন্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেভাবে এটি এখানে এসেছে, তা স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধের প্রস্তুতির গন্ধ পাচ্ছি আমরা।”

সকালের সেই ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণ যদি সত্যিই একটি দুর্ঘটনা হয়ে থাকে, তবে এই ড্রোনের হঠাৎ আবির্ভাব কি নিছক কাকতাল?

তেজগঞ্জের করুণা সিন্ধু ধারা বারান্দায় দাঁড়িয়ে একবার রাস্তায় চোখ বোলালেন, আবার তাকালেন উত্তর দিগন্তে। নিঃশব্দে বলে উঠলেন,
“আমরা যারা ১৯৭১ দেখেছি, তারা জানি… যুদ্ধ শুরু হয় এমনই নিঃশব্দে, হঠাৎ—একটা শব্দে।”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন