চকবাজারের দুপুর তখন বেশ জমজমাট। মানুষ ব্যস্ত নিজের কাজে, দোকানপাট খোলা, ভাজা খাবারের গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। হঠাৎই একজন পথচলতি মানুষ চোখে পড়ে রাস্তার ধারে, এক পুরনো মঠের কোণে একটি বড় পার্সেল পড়ে আছে। দেখতে অদ্ভুত। সাধারণ পার্সেলের চেয়ে বেশ ভারী—প্রায় ১৩ কেজি ওজন হবে।
প্রথমে কেউই গুরুত্ব দেয়নি। অনেকেই ভাবল, কারও ভুলে ফেলে যাওয়া প্যাকেট। কিন্তু বিকেল গড়াতেই সন্দেহ বাড়তে লাগল। এত সময় ধরে কেউ এল না পার্সেলটা নিতে? আর ঠিক তখন থেকেই মানুষজন ফিসফিস করে বলাবলি শুরু করল—“কোনও নাশকতার ছক নয় তো?” “নাকি… কোনও দেহাংশ?” সন্দেহের মাত্রা বাড়তে থাকে।
বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাহস করে পার্সেলটার কাছে যান। কিন্তু তারা স্পষ্ট দেখতে পান না কার নামে বা কোথা থেকে এসেছে। গায়ে লেখা কিছু নাম আর ঠিকানা থাকলেও তা এতটাই অস্পষ্ট যে কিছু বোঝার উপায় নেই। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—এবার পুলিশে খবর দেওয়া দরকার।
রাত ১০টার পর চুঁচুড়া থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। প্রথমে তারাও নিরাপদ দূরত্ব রেখে পার্সেলটিকে পর্যবেক্ষণ করে। চারদিকটা ঘিরে ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে। স্থানীয়দের তখন মনে হচ্ছিল, সিনেমার কোনও দৃশ্য চলছে! কৌতূহল আর আতঙ্ক মিলেমিশে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হয় চকবাজারে।
অবশেষে বিশেষ সতর্কতায় পুলিশ পার্সেলটি থানায় নিয়ে যায়। জানায়, বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে সেটি খোলা হবে। পুলিশ বলেছে, এমন অজানা ও ভারী পার্সেল রাস্তায় পড়ে থাকা মোটেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তারা তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকার মানুষজন দারুণ উদ্বিগ্ন। “আজকাল এত অপরাধ, বিস্ফোরণের ঘটনা… কে জানে এইটাও কিছু খারাপ কিছু নয় তো?”—বলে উঠলেন এক বৃদ্ধ। আতঙ্ক কিছুটা কমলেও রহস্য কাটেনি।
সেই রাতেই পুরো চকবাজার যেন থমথমে হয়ে ওঠে। সবাই অপেক্ষায় থাকে—পার্সেলের ভিতরে কী ছিল?
কিন্তু পরদিনও পুলিশ কোনও অফিসিয়াল বিবৃতি দেয় না। এলাকার মানুষজন অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকে খবরের চ্যানেল বা কাগজের দিকে। অথচ থানার দরজার ভিতরেই লুকিয়ে আছে সেই রহস্যময় প্যাকেট।
…আর তখনই গুজব শুরু হয়— “পার্সেলের ভিতরে ছিল এক অদ্ভুত বস্তু, যা…”
(গল্প এখানেই শেষ নয়… রহস্য এখনও উন্মোচন বাকি)

