অনেক বহু যুগ আগের কথা। এক রাতে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন মালব দেশের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। স্বপ্নে এক দেবদূত এসে বললেন, “সমুদ্রতীরে ভেসে আসবে একটি দেবদারু কাঠ। সেটি স্বয়ং বিষ্ণুর রূপ। তার থেকেই গড়বে তোমার রাজ্যের মন্দিরের দেবতা।”
এই স্বপ্নের পর রাজা শুরু করলেন অপেক্ষা। কয়েক মাস পর পুরীর সমুদ্রতীরে সত্যিই ভেসে এল এক অলৌকিক কাঠের গুঁড়ি — যে কাঠে না ছিল পচন, না ছিল ক্ষয়। রাজা আনন্দে আপ্লুত হয়ে শিল্পীদের ডেকে আনলেন। কিন্তু আশ্চর্য, কেউই সেই কাঠে হাত তুলতেই পারল না — হাত তোলার সঙ্গে সঙ্গেই হাত অসাড় হয়ে যেত।
তখনই এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ এসে বললেন, “আমি দেবতাকে গড়তে পারি, তবে এক শর্তে — সাত দিন ধরে আমি দরজা বন্ধ করে কাজ করব, কেউ দেখবে না, কেউ ডাকবে না।” রাজা সম্মতি দিলেন। শুরু হল দেবতা গড়ার কাজ।
কিন্তু কয়েকদিন পর রাজা ও রানী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন — দরজার ভিতর একটুও শব্দ নেই! ভাবলেন, শিল্পী বোধহয় মৃত। উদ্বেগে দরজা খুলে ফেললেন… আর ঠিক সেই সময়েই থেমে গেল সেই গোপন রূপের নির্মাণ। দরজার ভিতর পাওয়া গেল তিনটি অপূর্ণ প্রতিমা — জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার। তাঁদের হাত ও পা ছিল না সম্পূর্ণ, চোখ ছিল বড় ও গোল — একেবারে অনন্য এক রূপ!
রাজা দুঃখ পেলেন, কিন্তু ঠিক তখনই এক আকাশবাণী শোনা গেল, “এই অপূর্ণ রূপই হল আমার পরিপূর্ণতা। আমি এসেছি এই রূপে সমস্ত ভক্তের হৃদয়ে স্থান নিতে।”
তারপর থেকে এই অপূর্ণ, অথচ পূর্ণ রূপেই বিরাজ করছেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পুরীর মন্দির হয়ে উঠেছে হাজার হাজার ভক্তের আশ্রয়। আর সেই স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই আজও হয় রথযাত্রা — দেবতারা নিজের ভক্তদের কাছে যান, নিজের অদ্ভুত অপূর্ণ রূপ নিয়ে।

