রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে ইসমাইল ৬০ ফুট রাস্তার এক কোণে চলছিল শেষ মুহূর্তের নির্মাণকাজ। বাড়ির নতুন আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভয়ারটি তৈরি প্রায় শেষের দিকে। মিস্ত্রি রফিক আলি নিচে নেমে সিমেন্টের শেষ হাত বোলাচ্ছিলেন। উপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর সহকারী করিম শেখ।
“রফিক ভাই, সব ঠিক তো?”—করিম জিজ্ঞেস করলেন।
কিন্তু নিচ থেকে কোনও সাড়া এল না।
পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট… সময় পেরিয়ে গেল, কিন্তু রফিকের কোনো উত্তর নেই। করিম চিন্তিত হয়ে রিজার্ভয়ারের মুখ থেকে উঁকি দিলেন। নিচে রফিক নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছেন।
“রফিক ভাই!”—চিৎকার করলেন করিম।
কিন্তু কোনও সাড়া নেই। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল তাঁর মধ্যে। দেরি না করে সাহায্যের জন্য চিৎকার করা উচিত ছিল, কিন্তু তা না করে করিমই নেমে গেলেন রফিককে উদ্ধার করতে।
মাত্র কয়েক মুহূর্ত… তারপর আর কিছু মনে নেই।
বাড়ির সদস্যদের আতঙ্ক
বাড়ির সদস্যরা কিছুক্ষণ পর করিমেরও কোনো সাড়া না পেয়ে চিৎকার করতে শুরু করলেন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলেন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা কানায় কানায় ভরে গেল মানুষের ভিড়ে।
“কেউ ওদের নাম ধরে ডাকছে না কেন?”—একজন বলল।
“না, কেউ নিচে নামবে না! বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে!”—একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি সাবধান করলেন।
ততক্ষণে খবর দেওয়া হয়েছিল দমকল বাহিনীকে। তাঁরা এসে নিচে নামার পরিবর্তে প্রথমে রিজার্ভয়ারে জল ভরতে শুরু করলেন। বিষাক্ত গ্যাসের সম্ভাবনা থাকলে সেটি বেরিয়ে যাবে—এই ছিল তাঁদের কৌশল।
কিছুক্ষণ পরই দমকল বাহিনী রফিক আর করিমকে উদ্ধার করলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল… হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, অনেক আগেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
অসচেতনতার করুণ পরিণতি
বাড়ির মালিক মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন।
“যদি আগে জানতাম যে আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাস জমতে পারে, তাহলে বাঁচানো যেত!”
পাশের এক প্রবীণ ব্যক্তি বললেন, “এরকম ঘটনা নতুন নয়। অনেকেই জানেন না যে বন্ধ জলাশয়ে, বিশেষ করে নতুন রিজার্ভয়ারে, বিষাক্ত গ্যাস জমতে পারে। তাই সেখানে নামার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।”
সতর্কবার্তা
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, কোনও আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভয়ারে নামার আগে—
✅ অক্সিজেনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে।
✅ একজনের বিপদ হলে অন্যজনও ঝুঁকি নিয়ে নামা উচিত নয়, বরং দ্রুত সাহায্য ডাকা উচিত।
✅ দমকল বা অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ ছাড়া এমন জায়গায় নামা বিপজ্জনক হতে পারে।
রফিক ও করিমের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি অসচেতনতার নির্মম পরিণতি। সচেতনতা থাকলে হয়তো আজ তাঁরা বেঁচে থাকতেন। তাই সময় থাকতে শিখুন, জানুন, আর নিজের ও অন্যের জীবন রক্ষা করুন!
বিঃ দ্রঃ – আসানসোলের ঘটনা অবলম্বনে লিখিত।
|| সমাপ্ত ||

