Homeবর্ধমানPurba Bardhaman: ভিটে বিক্রির পিজ্জা

Purba Bardhaman: ভিটে বিক্রির পিজ্জা

দোকান সিল করে দেওয়া হয়েছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

বীরভূম জেলার শান্তিনগর শহরে, বাগানপাড়ার এক শান্ত বাড়িতে হঠাৎই নেমে আসে তীব্র অশান্তি। মিষ্টভাষী সুব্রত দাস তাঁর পুরনো পৈতৃক ভিটে বিক্রি করে সদ্য একুশ লক্ষ টাকা নগদ তুলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল—একটি ছোট্ট ফ্ল্যাট কিনবেন কলকাতায়, আর ছেলের ভবিষ্যৎটা একটু গুছিয়ে নেবেন।

সেই টাকা তুলে নিজের ঘরের লকারে রেখেছিলেন। কেউ জানত না, বলা চলে কাউকে বিশ্বাসও করতেন না। কিন্তু একদিন সকালে লকার খুলতেই হাওয়া! টাকা নেই, শুধু একমুঠো বাতিল পেমেন্ট রসিদ আর একটা ছোট্ট চিপ কাগজে লেখা:
“আরও একটা আইফোন হলে ভালো হত!”

সুব্রতবাবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। শুরু হয় খোঁজ। প্রথমে সন্দেহ গৃহপরিচারিকা, তারপর দূরের আত্মীয়। কিন্তু পরদিন যখন স্কুল থেকে খবর আসে, তখনই সব পরিষ্কার হয়ে যায়।

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সায়ন দাস—সুব্রতবাবুর একমাত্র নাতি, দুঃখজনকভাবে এই কাণ্ডের মূল সূত্রধর। জানা যায়, সে প্রতিদিন স্কুল শেষ করে সরাসরি যেত শহরের এক জমজমাট “চিজিলিসা পিজ্জা কর্নার”-এ। কখনও ৩,০০০, কখনও ৫,০০০—আনন্দে পিজ্জা, সফট ড্রিঙ্কস, ডেজার্ট, এমনকী পুরো রেস্তরাঁর প্রথম তলাও বুক করে বসত বন্ধুবান্ধব নিয়ে।

প্রথমে দোকানের কর্মীরা অবাক হলেও পরে খুশি। কারণ ছেলেটি টাকা দিতে কার্পণ্য করত না। দোকানের ম্যানেজার অভিষেক সরকার ধীরে ধীরে সায়নের ‘বন্ধু’ হয়ে ওঠে। তাকে বলে,

“তোর মতো স্মার্ট বাচ্চা আইফোন ছাড়া চলে? নিয়ে আয় টাকা, আমি এনে দিচ্ছি।”

দিন যেতে থাকে, আর সায়নের সাহস বাড়ে। সে জানে না এই আনন্দের দাম একদিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। এমনকী একবার তাকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কুয়াখালিতে জলে চুবিয়েও ভয় দেখানো হয়—“চুপ না করলে ফাঁসাবো তোর বাবুকে!”

সব ফাঁস হয়, যখন একদিন তার ছোট্ট ডায়েরিতে লেখা দেখা যায়—
“অভিষেকদা বলেছে, আর ৫০,০০০ আনলেই অ্যাপল ঘড়ি হবে। কিন্তু লকারে আর নেই…”

সুব্রতবাবু থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিষেককে জেরা করতে শুরু করে, এলাকার মানুষ জড়ো হয় দোকানের সামনে, পোস্টার পড়ে যায় “শিশুদের টাকা হাতানো বন্ধ করো!

শেষে সায়নের বাবা অরিন্দম কাঁদতে কাঁদতে বলেন,

“আমরা ভাবতেই পারিনি একটা ছোট ছেলে এতটা দূর যেতে পারে, আর কতটা লোভ দেখানো হলে একটা শিশু তার পরিবারকেও ভুলে যায়…”

আর দোকান? দোকান সিল করে দেওয়া হয়েছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

আর সায়ন? এখন মনোবিদের তত্ত্বাবধানে, চিজ বার্গারের বদলে খাচ্ছে নরম ভাত, আর ডায়েরিতে লিখছে—

“ভালো বন্ধুরা টাকা চায় না। ওরা পাশে থাকে। বুঝলাম আজ… দেরি হলেও।”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন